আসছে কৌশিকী অমাবস্যা, যেদিন মা তারা বধ করেছিলেন দুজনকে…

0
537

আগামী ৩০শে আগস্ট শুক্রবার কৌশিকী অমাবস্যা। এই অমাবস্যার আর এক নাম তারা রাত্রি। তন্ত্র সাধনার জন্য এই অমাবস্যাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। শুধু হিন্দু শাস্ত্রে নয়, বুদ্ধ শাস্ত্রেও এই অমাবস্যার গুরুত্ব রয়েছে। কি এই কৌশিকী অমাবস্যা, আর এই দিন কি কি করা হয় সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ জেনে নিন।

কৌশিকী অমাবস্যা অন্য সব অমাবস্যার থেকে একটু আলাদা। কারণ তন্ত্র মতে ও শাস্ত্র মতে ভাদ্র মাসের এই তিথিটি একটু বিশেষ। অনেক কঠিন ও গুপ্ত সাধনা এই দিন করলে আশাতীত ফল পাওয়া যায়। এই দিন সাধকরা কুণ্ডলিনী চক্রকে জয় করে।

বুদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রে এই দিনের এক বিশেষ মাহাত্ম আছে। তন্ত্র মতে কৌশিকী অমাবস্যার এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরকের দোয়ার কিছু সময়ের জন্য উন্মুক্ত হয়। সেই সময় সাধন নিজের ইচ্ছা মত ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক শক্তি নিজের সাধনার জন্য আত্মস্ত করে সিদ্ধি লাভ করে।

এই কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠের মন্দিরে চলে নানা ধরনের পুজো ও সাধনা। তারাপীঠ পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার রামপুরহাট শহরের কাছে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র মন্দির নগরী। এই শহর তান্ত্রিক দেবী তারার মন্দির ও শ্মশান ক্ষেত্রের জন্য বিখ্যাত।

হিন্দুদের বিশ্বাসে এই মন্দির ও শ্মশান একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। এই মন্দিরটি ৫১ সতিপিঠের অন্যতম। এই জন্য এই স্থানটির নামও সেখানকার ঐতিহ্যবাহী তারার আরাধনার সঙ্গে যুক্ত। তারাপীঠে এই দিনে সাধক বামাখ্যাপা সিদ্ধি লাভ করেন।

তাই এই পীঠকে সিদ্ধিপীঠ বলা হয়। আবার কথিত রয়েছে মা এই বিশেষ তিথিতে শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামের দুই অসুর বধ করেন। এই উপলক্ষে এখানে বিশেষ পূজা আয়োজিত হয়। মৎস পুরাণ ও মার্কেন্ডয় পুরাণে বলা হয় অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করতে দেবী পার্বতী সাধনা শুরু করেন।

তপস্যার পর নিজের গায়ের রং পরিত্যাগ করে উজ্জ্বল কালো বর্ণের ভয়াল রুপ ধারন করেন তিনি। সেই রুপে দেবী পার্বতী হয়ে ওঠেন কৌশিকী। আর এই কৌশিকী অমাবস্যার এক বিশেষ মুহূর্তে বধ করেন শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামের এই দুই অসুরকে। এই মুহূর্তকে স্মরণ করেই অনুষ্ঠিত হয় কৌশিকী অমাবস্যার পূজা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here