বাবাকে সুস্থ করতে গরমের ছুটিতে আইসক্রিম বিক্রি ছাত্রের…

0
1804

সরকারি স্কুল গুলতে দুই মাসের ছুটি, যখন সেই সমস্ত স্কুলের ছাত্রদের বাবা মারা তাদের ছেলে পুলেদের সিলেবাস শেষ হবে কি করে এই নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন, তখন নিজের বাবার চিকিৎসার জন্য খেটে খরচ ওঠাতে গ্রীষ্মের এই প্রখর গরমে রাস্তায় বেরিয়ে পরেছে এক বালক। নাম তার আতিকুল শেখ, সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র সে।

মনের অদম্য জোর ও জেদের বশে এই ফুটিফাটা গরমকে তোয়াক্কা না করে বেরিয়ে পরেছে আইসক্রিম বিক্রি করতে। গরমের ছুটি কাটাতে বা আরাম-আয়াস করতে নয়, সংসারের হাল ধরতে মা বাবার সম্বল হতে প্রবল দাবদাহ উপেক্ষা করে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুদূর বীরভূম থেকে দুর্গাপুর এসে ৬০-৭০ কিলোমিটার সাইকেলে চালিয়ে আইসক্রিম বিক্রি করছে সে।

বাবা নিজাম শেখ রাজ মিস্ত্রির কাজ করতেন, কোনও এক অসুস্থতার কারনে তার পা ফুলে যায়, যার জন্যে সে আর হাঁটা চলা করতে পারেন না। মা বাড়িতে কাঁথা সেলাই করে মাসে ৫০০ টাকা রোজগার করেন। একটি ৭ বছরের ভাইও আছে আতিকুলের। ফলে বাড়ির সমস্ত দায়িত্ব এসে পরেছে আতিকুলের ওপর।

তাই বাধ্য হয়ে ১২ বছরের ছোট্ট আতিকুল সংসারের হাল ধরতে বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে এবং বাবা-মা ও ছোট্ট ভাইয়ের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে সাইকেলে করে আইসক্রিম বিক্রি করতে বেরিয়ে পরে।

বীরভূমের একটি আইসক্রিম ফ্যাক্টরি থেকে প্রতিদিন আইসক্রিম তুলে এই অকাল গ্রীষ্মে দুর্গাপুরের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন ঘুরে ঘুরে আতিকুল আইসক্রিম বিক্রি করছে।

আতিকুলকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে যে, ‘তীব্র গরমে আমার হয়ত কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমার প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে আইসক্রিমও বিক্রি হচ্ছে।’ আতিকুলের বক্তব্য প্রতিদিন আইসক্রিম বেঁচে তার আয় হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা। ‘স্কুল খুলে গেলে হয়ত এত সময় ধরে আমি আইসক্রিম বিক্রি করতে পারবো না। তবে সময় বের কর আমি এই পেশা থেকে উপার্জিত অর্থে বাবার চিকিৎসা করাবো।’

আতিকুলের বাবা নিজাম শেখ বলেন, ‘আমি আগে রাজমিস্ত্রির কাজ করতাম। তখন সংসার সচল ছিল। আমি অসুস্থ হতেই সব ওলোটপালোট হয়ে গেছে। আর আমার ছোট্ট ছেলেটা প্রবল গরমে সকালে খালি পেটে বেরিয়ে যখন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরে তখন আর অর্থের দিকে তাকাই না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here