ছেলের বিয়ে দিতে এসে পাত্রীকে বিয়ে করলেন ছেলের ৬৫ বছরের বাবা…

0
38855

আমাদের এই বিশ্বে বিয়ে নিয়ে অদ্ভুত কাণ্ড কতই না ঘটেছে। সেই সব গল্প আমরা অনেক শুনেছিও বটে। কিন্তু আজ যে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা করবো সেটা হল যে এক ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ বিয়ে করেছেন তার ছেলের জন্য ঠিক করা ২১ বছর বয়সী পাত্রীকে। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের পাটনা শহরের সমস্তিপুর গ্রামে।

বিহারের পাটনা শহরের সমস্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেন রোশন লাল, তার বয়স গড়িয়েছে ৬৫ এর কোঠায়। তিনি তার ছেলের জন্যে পাত্রী খুঁজছিলেন। অবশেষে ২১ বছর বয়সি সপ্নার সাথে বিয়ের পাকাপাকি কোথাও হয়। পাত্রী স্বপ্নাও থাকেন একই এলাকায়।

পারিবারিক সম্মতি নিয়েই পাত্র ও পাত্রী পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা হয়ে বিয়ের দিন ঠিক করা হয় রোশন লালের ছেলে এবং পাত্রী স্বপ্নার। মহাধুমধামে শুরু হয় বিয়ের প্রস্তুতি। দুই পরিবারই বিয়ের কার্ড বা নিমন্ত্রন পত্র বিলি করে, আগে থেকে নিমন্ত্রিত লোকজনদের খাওয়ানো দাওয়ানোর সমস্ত কিছুই আগে ঠিক করেছিলেন তারা।

কিন্তু ঝামেলা হল বিয়ের দিন, বিয়ের দিন ছেলেকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না, খোঁজ খোঁজ শেষে দেখা গেলো ছেলে পগারপার, ছেলে তার প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়েছে। অসংখ্য অতিথিদের মধ্যে দুই পরিবারেরই সন্মান জড়িত, ছেলের পালিয়ে যাওয়া বিষয়টি কেউই জানতেন না।

কিন্তু এই ঘটনার জন্য তারা নিজেরা আর কি করবেন। স্বপ্নার মা বাবা নিজেদের সন্মান বাঁচাতে চান, এতো লোকজনকে ডেকে যদি কোন খারাপ কিছু হয় তবে নিজেদের মান সন্মান সব ধুলোয় মিশে যাবে। এর পরিস্থিতি থেকে বেরোনর জন্যে পাত্র পক্ষকে চাপ দেওয়া যায় না কারন পাত্রই তো পগার পার।

তো এবার বিয়ে হবে কি করে? পাত্র পক্ষ্যের সাথে ঝামেলা করেও কোন কূল কিনারা হবে না। তাই সমস্ত কূল কিনারা হারিয়ে নাজেহাল হয়ে পাত্রী পক্ষ্য জিজ্ঞেস করলো রোশন লালকে যে তিনি যদি তার মেয়েকে বিয়ে করেন, এতে সবাই খুব চমকে ওঠেন, বিশেষ করে নিমন্ত্রিত অতিথিরাই।

চিন্তিত রোশান লাল প্রথমে রাজি না হলেও পরে ২১ বছরের স্বপ্নাকে বিয়ে করতে রাজি হন। এক্ষেত্রে অনেকে ঐ বৃদ্ধের এই পদক্ষেপকে অসম্মানজনক বা হাস্যকর মনে করলেও আমাদের এটা ভাবতে হবে যে ঐ সময় বৃদ্ধের কাছে মেয়েটির সম্মান বাঁচাবার আর কোন উপায় ছিল না। একজন মেয়ের সম্মান বাঁচাতে তিনি তাকে বিয়ে করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here