রাজ‍্যের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন, পারদ চড়লো ৪২ ডিগ্রিতে…

0
7315

বাংলায় গরমকাল প্রবল দাবদাহের মাস। শীতের শেষে বসন্তের মধ্যে দিয়ে ধিরে ধিরে গরম যখন উকি দেয়, তখন তাকে ভালো লাগলেও মার্চ মাসের শেষ ভাগ থেকে গরম তার আসল চেহারা নিতে শুরু করে এবং এপ্রিলের মঝামাঝি সময় থেকেই এর প্রখরতা বারতে থাকে। বারতে বারতে তা এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছয় যে গরম প্রান অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

যে গরমের হালকা আমেজে একটা সময় ছাদে তেঁতুল মাখা খাওয়া হত, ধিরে ধিরে সেই গরম এমন প্রকৃতিকে নিরশ করে তলে যে সন্ধ্যের আগে আর ছাদে ওঠাই দুস্কর হয়ে ওঠে।

শুরুর দিকে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির শেষ এবং মার্চের শুরুর সময় সাধারণত তাপমাত্রা থাকে পঁচিশ থেকে সাতাশ ডিগ্রী এবং বছর যত এগোয় গ্রীষ্মের প্রখরতা ততই বারতে থাকে। তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় পৌঁছায় যে কাক পক্ষীও আকাশে দেখা যায় না।

গ্রামের দিকে অবস্থা আরও করুন আকার ধারন করে। কারণ সেখানে আর তো শহরের মত টাইম কল নেই, ফলে চোখে পরে প্রবল জলকষ্ট। নদী শুকিয়ে যায়, পুকুর শুকিয়ে সেখানের সমস্ত জলচর প্রাণী মারা যায়। খেতে খেটে খাওয়া চাষিরা চায় একটু বৃষ্টি।

মাটি ফুটিফাটা হয়ে সেখানে দেখা দেয় খরা। কোন কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয় সেটা প্রকৃতির সময়ে সময়ে প্রখরতায় বুঝতে পারা যায়।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় গ্রীষ্মকালে উষ্ণতার খুব একটা তারতম্য দেখা যায় না, কারন গ্রীষ্মের প্রখরতা বাংলার প্রায় সব জায়গাতেই সমান দেখা যায়। উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণ বঙ্গের মধ্যে বর্ধমান বীরভূম এই অংশে তাপমাত্রা চরম থাকে।

কলকাতায় গতকাল তাপমাত্রা ছিল ৪০.৩ ডিগ্রী। আজ তাপমাত্রা বেড়ে ৪২ ডিগ্রীর কাছাকাছি যেতে পারে। কাল আসানসল এলাকায় তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল প্রায় ৪২ ডিগ্রী। ৩৯ তাপমাত্রা ছিল হুগলীর। পুরুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ৪১.৩ ডিগ্রী। পানাগরে ৪০.৩ ডিগ্রী, বাঁকুড়ায় ৪০.৭। বর্ধমানেও গড়ে ৩৮.৪ ডিগ্রী তাপমাত্রা ছিল। মে মাসের মাঝামাঝিতেই যদি এইরকম গরম পরে তবে এখনও অর্ধেক গরমকাল বাকি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here