কিছু আর্তির সুর মিশে মহম্মদ রফির গানে অনবদ্য শৌনক…

0
671

প্রার্থনা আমাদের শান্ত করে। হয়তো সেজন্যই নিজেদের দুঃখ এবং দুর্দশার সমস্ত অভিযোগ জানানোর জন্য এই পার্থিব জগতের উর্দ্ধে থাকা এক শক্তিকেই আমরা বেছে নিই বরাবর। আমরা চাই তাকেও এই দুঃখের ভাগীদার করে নিতে। ১৯৫২ সালে বৈজু বাওরা সিনেমায় সেই আর্তির ছবি ধরেছিলেন মুখ্য চরিত্র ভারত ভূষণ। ও দুনিয়া কে রখওয়ালে গানটিতে সেই আর্তি কন্ঠ পেয়েছিল ভারতবর্ষের অন্যতম কিংবদন্তী গায়কের। মহম্মদ রফি নামেই তাকে সবাই চেনেন।

আরেকজনেরও কৃতিত্ব জড়িয়ে আছে এই গানটির সাথে। তিনি নৌশাদ। সংগীত পরিচালনায় তিনিও একজন কিংবদন্তী। তবে এই খুব রঙিন সেজে থাকা এই পৃথিবী সাদা কালো সময়ের মানুষগুলোকে আস্তে আস্তে ভুলে যাচ্ছে। খুবই আশঙ্কার কথা। কিন্তু তবুও আশার আলো দেখতে পাওয়া যায় যখন দেখা যায় নৌশাদের জন্মশতবর্ষের কথা এবং মহম্মদ রফির কথা ভেবে আবার এই গানটি ফিরে আসে।

গানপ্রেমীদের কাছে অবশ্যই এটি একটি সুখবর। শৌনক চট্টোপাধ্যায় ছেলেবেলা থেকেই রফির একনিষ্ঠ ভক্ত। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পরিমণ্ডলে বড় হওয়ার জন্যই হোক অথবা ক্লাসিকালের প্রতি আলাদা ভালোবাসার জন্যই হোক, যেসব গায়কের গায়কীর মধ্যে একটু হলেও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ছাপ আছে শৌনকের তাদের গান ছেলেবেলা থেকেই বেশি ভালো লাগতো।

সেই পছন্দের তালিকায় রফি, মান্না দে, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, লতা জি, আশা জি সবাই থাকলেও রফির গানের অসম্ভব ভক্ত ছিলেন শৌনক। তিনিই ও দুনিয়া কে রখওয়ালে গানটিকে আবার ফিরিয়ে এনেছেন শ্রোতাদের সামনে। গানের প্রতি ভালোবাসা এবং চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ইচ্ছে থেকেই এই গানটি করার ইচ্ছে ছিল শৌনকের।

চ্যালেঞ্জটা অবশ্যই নিজের প্রতি। ভালোবাসার শিল্পীর গানে নিজের সমস্ত আবেগ উজাড় করে দিয়েছেন তিনি। এই গানটি Re arrange করেছেন প্রদ্যুৎ চ্যাটার্জী। এই ধরণের গান হারিয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। এই ভুলে যাওয়াকে মেনে নেওয়া যায় না কিছুতেই। সনম পুরীর গাওয়া লগ যা গলে এবং আপ কি আখো মে লোকেরা মনে রেখেছেন।ভুলে গিয়েছেন মদন মোহনকে।

রবীন্দ্রনাথের উজ্জ্বলতায় আমরা ভুলেই গেছি অতুলপ্রসাদকে। এই ভুলতে থাকা পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে শিল্পীদের কর্তব্য মানুষকে অন্তত একটা নতুন গান শুনতে সহিষ্ণু করে তোলা। বিপণনের এই যুগে মানুষ অচেনা গান শুনলেই হাই তুলে উঠে পড়ে। তারা বড্ড ব্যস্ত, বড় অধৈর্য্য। তাদের নতুন গান শোনানোটাও একটা বড় কাজ একজন শিল্পীর বলে শৌনক মনে করেন।

একটা নতুন গান, অল্প শ্রুত বা অশ্রুত গান মানুষের কাছে পৌঁছলেও শিল্পীর সেটা বড় পাওনা। আর গানের প্রতি ভালোবাসা থেকেও তো এই অসামান্য গানগুলোকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যায় না কিছুতেই। শৌনক সেটাই করছেন। পরবর্তী সময়েও করবেন নিশ্চয়ই। আমরাও অপেক্ষায় থাকবো আরো ভালো গানের ‘ও দুনিয়া কে রখওয়ালে’-র মতন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here