মাঙ্গলিক বিষয়ে ভীতি দূর করুন, জ্যোতিষ মতে এর সঠিক ব্যাখ্যা…

0
7659

অনেক সময় আমরা একটা কথা শুনে থাকি যে কেউ কেউ মাঙ্গলিক। অর্থাৎ তার জন্মসুত্রে মাঙ্গলিক দোষ আছে। এর জন্য অনেকে অনেক কিছু প্রতিকার করেন। মুলত বিবাহের সাথে এর যোগসূত্র আছে। মাঙ্গলিক থাকলে বিবাহিত জীবন নাকি সুখের হয় না। শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে না, আরও অনেক কিছু। কিন্তু মাঙ্গলিক  আসলে কি, আর এর থেকে প্রতিকার পেতে গেলে কি করনীয়, আসুন জেনেনি।

এই মাঙ্গলিক শব্দটি জ্যোতিষ শাস্ত্রের সাথে যুক্ত। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে আমাদের জীবনের ভালো মন্দ নির্ধারিত হয় গ্রহের উপর নির্ভর করে। আর মাঙ্গলিক দোষের নির্ধারণ কর্তা হল মঙ্গল গ্রহ। আমাদের জন্মছককে ১২টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, এক একটি ভাগকে এক একটি কারন হিসাবে ধরা হয়েছে।

কোনো ঘর ভাগ্যের, কোনো ঘর অর্থের, কোনো ঘর টাকার ইত্যাদি। আর এসবের উপর নির্ভর করে জাতকের ভাগ্য নির্ধারণ হয়। জন্মকুন্ডলীতে লগ্ন থেকে প্রথম, চতুর্থ, সপ্তম, অষ্টম আর দ্বাদশে মঙ্গলের প্রভাব থাকলে মাঙ্গলিক দোষ হয়। এর সঙ্গে খারাপ কোনো কিছু যোগ হলে, যেমন কেতু যোগ হলে খারাপের পরিমানটা আরও বেড়ে যায়।

প্রথম ভাবে মঙ্গলের দৃষ্টি থাকলে জাতকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে না, উগ্রতা আসে স্বভাবে। চতুর্থ ভাবে মঙ্গলের দৃষ্টি থাকলে মায়ের শরীর খারাপ, বাড়িতে অসুস্থতা লেগে থাকে। সপ্তমে মঙ্গলের প্রভাবে বিবাহিত জীবন সুখের হয় না, অশান্তি লেগে থাকে, ব্যবসায় উন্নতি হয় না। অষ্টমে মঙ্গলের প্রভাবে আইনি ঝামেলা বৃদ্ধি পায় আর দ্বাদশে জাতকের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়।

কি করবেন মাঙ্গলিক দোষ কাটাতে – শাস্ত্রমতে প্রতি মঙ্গলবার হনুমানজীর পুজো করুন, মঙ্গলবার হনুমানচল্লিশা পাঠ করুন, মন্দিরে গিয়ে মেটে সিদুর দিয়ে পুজো করুন। ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান। এতে মাঙ্গলিক দোষ কাটবে।

প্রতি মঙ্গলবার পশুদের খাওয়ান, পারলে হনুমানকে খাওয়ান। কুকুর বিড়ালকে খাওয়ান, তাহলে এই দোষ কেটে যায়। মাঙ্গলিক দোষের প্রতিকারে কুম্ভবিবাহের কথা প্রচলিত আছে। অর্থাৎ জাতক বা জাতিকাকে কলা বা পিপুল গাছের সাথে বিবাহ দেওয়া হয়। এতেও অনেকটা দোষ কেটে যায়।

প্রতি মঙ্গলবার উপোষ করে অড়হর ডাল খেলে এই দোষ কেটে যায়। মঙ্গলবার নবগ্রহ মন্ত্র পাঠ করলে তার সাথে গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করলে এই দোষ কাটতে পারে। আপনার যদি মাঙ্গলিক দোষ থাকে তো এগুলি করতে পারেন।