পৌষ মাসে সামান্য এই উপাদান, সহজেই কাটিয়ে নিন শনির দোষ…

0
2018

আমরা অনেকেই দেব দেবী বিশ্বাস করি। যেকোনো ভালো কাজের আগে আমরা ভগবানকে স্মরণ করি। কিন্তু শনিদেবের নাম শুনলে আমরা সবাই ভয় পাই। তখন একটাই চিন্তা মাথায় আসে, শনিদেবের দৃষ্টি পড়লে কোনো না কোনো ক্ষতি আমাদের হবেই। কথায় আছে শনির দোষ থাকলে কোনো কাজই সফল হয় না। সব কাজেই বাধার সৃষ্টি হয়।

তবে শনির দশা কাটানো যায়। শনিদেবের আরাধ্যা হলেন মা কালী। তাই শনিদেবকে সন্তুষ্ট করতে হলে মা কালীর পুজো করা উচিত। শনিদেবকে আমরা ভয়ের চোখে দেখে থাকি, কিন্তু মৎস পুরানে শনিদেবকে লোকহিতকর গ্রহের তালিকায় ফেলা হয়েছে।

প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় শনিদেবের পুজো অর্চনা করার বিধান রয়েছে। শনিদেবের মন্দিরে বা বাড়ির খোলা জায়গায় পুজো করা হয়। নীল বা কৃষ্ণ বর্ণের ঘট, পুস্প, বস্ত্র, লৌহ, মাসকলাই, কালো তিল, দুধ, সরষের তেল, গঙ্গাজল শনিদেবের ব্রতের জন্য আবশ্যিক।

নির্জলা উপাস থেকে এই ব্রত পালন করতে হয়। যাদের শনির সাড়ে সাতির যোগ চলছে তাদের শনিদেবকে অবশ্যই তুষ্ট রাখতে হয়। আর পৌষ মাসে একটি উপাদান দিয়ে পুজো করলে শনিদেবের কৃপাদৃষ্টি লাভ করা সম্ভব।

শনি হিন্দু সনাতন ধর্মের একজন দেবতা। যিনি সূর্যদেব ও তার পত্নী ছায়াদেবীর পুত্র। তাই শনিদেবকে ছায়াপুত্র বলা হয়। পুরানে কথিত আছে একদিন শনিদেবের ধ্যানের সময় তার স্ত্রী সুন্দর বেশভূষা ধরে তার কাছে এসে কাম প্রার্থনা করেন। কিন্তু শনিদেব সেদিকে খেয়াল না করলে তার স্ত্রী তাকে অভিশাপ দেন, “আমার দিকে তুমি ফিরেও চাইলে না, তুমি যার দিকে তাকাবে সেই ভস্ম হয়ে যাবে”।

এরপর থেকে শনিদেব অশুভ বাহক হিসাবে বিবেচিত হয়। পৌষ মাসে কিছু নিয়ম মেনে চললে শনির দোষ কাটানো যায়। যেমন, হাত পা ভালো করে ধুয়ে রাতে একমুঠো কালো সরষে ও লবণ নিয়ে চৌরাস্তার মোরে সাতবার ফেললে শনির দৃষ্টি সহজে কাটানো যায়।

শনির প্রভাবে যদি ব্যবসায় সমস্যা হয় তাহলে সামান্য কাচা হলুদ ও গোটা সরষের দানা নিয়ে পুরো দোকান পাঁচ বার ঘুরে কোনো জলাশয় সেগুলি ফেলে দিন। এতে আবার সফলতা ফিরে আসবে।

পৌষ মাসের শনিবারে কালো কাপড়ে ৩ চামচ সরষের দানা নিয়ে কাপড় শুদ্ধ পুড়িয়ে দিন। এতে শনির দোষ সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবেন। প্রতি শনিবার একটা পাত্রে গঙ্গাজল ও কালো সরষে একসাথে নিয়ে শিবলিঙ্গে নিবেদন করুন।