সরিষার তেল চুলের জন্য কতটা উপকারী ?

0
6279

বর্তমানে আমরা চুল বা ত্বক সব ক্ষেত্রেই নিত্য নতুন নানা নামিদামি প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকি। কেউ প্রাকৃতিক কোন জিনিস ব্যবহারই করিনা। কিন্তু একটা সময়ে এসব কিছুই ছিল না। তখন মানুষ প্রকৃতি থেকে পাওয়া জিনিসই ব্যবহার করতো ত্বক, চুল ভালো রাখার জন্য। তারই মধ্যে অন্যতম একটি হল সরষের তেল, যা এখন রান্নার কাজে ছাড়া অন্য কোন কাজেই লাগেনা।

সরষের তেল আমাদের শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়াতে সাহায্য করে, ঠান্ডা লাগার ঘরোয়া চিকিৎসায় কাজে লাগে। ত্বকে এই তেল ব্যবহার করলে ত্বক মসৃণ হয়। তাছাড়াও সরষের তেল আমাদের চুলের জন্য খুবই উপকারী।

আমাদের সকলেরই চুল খুব প্রিয়, সেটা ছেলে হোক বা মেয়ে। বিশেষত মেয়েরা লম্বা চুল খুবই পছন্দ করে। আগে সবাই মাথায় সরষের তেল মেখেই স্নান করতো। তাই তখন বেশিরভাগ মেয়েদের মাথায় ঘন কালো চুল ছিল।

বর্তমানে প্রাকৃতিক দূষণ ও সব জিনিসে ভেজালের কারনে আমাদের চুল দূর্বল হয়ে পরছে। চুল ঝরে পড়ছে, অকালে পেকে যাচ্ছে। এই সমস্যা থেকে মুক্তির একটি উপায় হল সরষের তেল মাখা। নিয়মিত চুলে সরষের তেল মাখলে চুল হবে ঘন, স্বাস্থ্যজ্জল, মসৃণ ও সুন্দর।

প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসাবে কাজ করে সরষের তেল। সরষের তেলে থাকা আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড চুলকে সুন্দর করতে সাহায্য করে। এটি চুলে কন্ডিশনারের কাজ করে। ফলে চুলের বৃদ্ধি হয় ও চুল মজবুতও হয়। চুলকে নারিশ করে সরষের তেল।

চুলে নিয়মিত সরষের তেল মাখলে ও অল্প একটু মাসাজ করলে চুলের ফলিকল মজবুত হয়। রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি হয় মাথার ত্বকে। আর চুলের আসল শক্তি তার গোড়াতে। চুল গোড়াতে যদি মজবুত থাকে তাহলে তা পরবে না। তাই ভালো করে মাথার তালুতে সরষের তেল মালিশ করুন।

সরষের তেলে থাকে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অ্যাসিড চুল বড় করতে সাহায্য করে। তাছাড়াও সরষের তেলে আছে অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান যা মাথার খুসকি দূর করে। মাথার ত্বকে চুলকানি দূর করে। চুলের গোড়া অনেক সময় বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে টাক পরতে শুরু করে। সরষের মালিশ করলে চুলের গোড়া বন্ধ হয় না, আর চুলও হয় মজবুত।