চানক্য নীতি মতে মানুষের এই ৪টি ক্ষুধা কখনই মিটে না…

0
18531

চানক্য ছিলেন একধারে উপমহাদেশের একজন নামকরা শিক্ষক। আজ থেকে প্রায় তিনশত বছর আগে উনি তার শিক্ষা দান ও কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন এই ভূমিতে। চানক্যকে কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত নামেও ডাকা হয়। চানক্য এমন কিছু কথা বলে গিয়েছেন যা আমাদের জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। আজ আমি সেই চানক্যের কিছু বানি সম্পর্কে বলব জা আপনার জীবনকে সহজ করে তুলবে।

চানক্য নীতি অনুযায়ী কোথাও পা রাখার সময় সর্বদা ভালো করে দেখে নেওয়া উচিৎ। এর ফলে আঘাত লাগা ও দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যে ব্যাক্তি ভেবেচিন্তে কথা বলেন তাকে পরে কখনও অনুসুচনা করতে হয় না। বরং এই ধরনের মানুষ জীবনে অনেক উন্নতি করেন।

ভালোভাবে ভেবেচিন্তে তবেই কোন কাজ করা উচিৎ। অর্থাৎ জিনি কাজের ফল কি হতে পারে তা আগেই ভেবে নিয়ে কাজ করেন তার উন্নতি নিশ্চিত। অধমেরা ধন চায়, মধ্যমেরা ধন ও মান চায়, আর উত্তমেরা শুধু মান চায়। মানই মহতের ধন।

যে আরালে কাজের বিঘ্ন ঘটায়, কিন্তু সামনে ভালো কথা বলে। অর্থাৎ যে মানুষের মুখে মধু কিন্তু অন্তরে বিষ, তাকে পরিত্যাগ করাই মঙ্গল। উৎসবে, বিপদে, দুর্ভিক্ষে, শত্রুর সাথে সংগ্রাম কালে, রাজ দ্বারে এবং শ্মশানে যে সঙ্গে থাকে সেই প্রকৃত বন্ধু।

চানক্যের মতে মানুষের এই চারটি ক্ষুধা কখনোই মেটে না। সেগুল হল ধন-সম্পদ, জীবন, বাসনা আর স্ত্রী সঙ্গ। এই চারটি জিনিস মানুষ যত পায় ততই চায়। চানক্য বলে গিয়েছেন একশত মূর্খ পুত্রের চেয়ে একটি গুনি পুত্র অনেক ভালো। কারণ একটি চন্দ্রই রাতের অন্ধকার দূর করে।

যার গৃহে মা নেই এবং যার স্ত্রী চরিত্রহীন, তার বনে যাওয়াই ভালো। কারণ তার কাছে বন আর গৃহের মধ্যে কোন তফাত নেই। এই তিনটি বিষয়ে সর্বদা সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ – নিজের স্ত্রিতে, ভোজনে এবং ধনে। কিন্তু অধ্যায়ন, জব আর দান এই তিন বিষয়ে কখন যেন সন্তোষ না থাকে।

দারিদ্র, রোগ, দুঃখ এবং বিপদ এই সব কিছুই মানুষের অপরাধের ফল। দুর্বলের শক্তি রাজা, শিশুর শক্তি কান্না, মূর্খের শক্তি হচ্ছে নিরবতা এবং চোরের শক্তি হচ্ছে মিথ্যা কথা। যে পর স্ত্রীকে নিজের মায়ের মতন দেখে, অন্যের জিনিসকে যে মূল্যহীন মনে করে এবং সকল জীবকে যে নিজের মত মনে করে, সেই প্রকৃত জ্ঞ্যানি।