সিগারেটের চেয়েও ভয়ংকর…

0
7142

কোন সিনেমা হলে প্রথম বিজ্ঞাপন শুরু হয় মুখের ক্যান্সার দিয়ে। মানুষের উপর সিগারেট খাওয়ার যে কত কু-প্রভাব থাকতে পারে গোটা সিনেমার আগেই তা জেনে যায় মানুষ। এই সময় কেউ কেউ মুখ বেঁকিয়ে বসে থাকেন। কেউবা ভাবে এরকম কোন কিছু হয় না, সবই বাড়াবাড়ি। এমনকি স্ক্রিনে হিরো সিগারেট খেলে তার সিগারেট ধরার স্টাইল দেখে পাগল হয়ে যায় অনেকেই।

এই সিনেমাতেই হিরোর সিগারেট খাওয়া দেখে পাশের পাড়ার কমল থেকে শুরু করে মন্টু পর্যন্ত শিখে যায় কিভাবে ধরতে হয় সিগারেট, কিভাবে জ্বালাতে হয় আগুন। আসলে এই ক্রমশ বেড়ে ওঠা মারণ নেশার প্রতিকার যে ঠিক কি এবং কেন সেই নিয়ে মানুষের কৌতূহল থাকলেও মানুষ এই নেশায় মরতেই ভালোবাসে, তার কোন উত্তর নেই।

শুধু সিগারেট নয়, গাঁ’জা এবং অন্যান্য ধোঁয়া জিনিসও মানুষ খায় পরম সুখে। অনেকের সিগারেটের নেশা ছাড়তে অসুবিধা হয়, কারণ তার কাছে ওটা জীবনযাপনের মতোই একটা অঙ্গ হয়ে গেছে। অনেকেরই সিগারেট ছাড়লে তার উইথড্রয়াল সিম্পটমস দেখা যেতে থাকে।

ফলে জীবনের সুস্থ শান্তি অনেক সময়েই বিঘ্নিত হয়। সেখান থেকে বেরোনোর জন্য কেউ কেউ পাটকাঠি ধরিয়ে টানেন অথবা কেউ কেউ অন্য নেশায় চলে যান। কিন্তু কোনভাবেই এই নেশার হাত থেকে পুরোপুরি বেরোতে পারেন না।

মুখে সবসময় একটু কিছু থাকলে অনেকেই বলেন এই অভ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, কিন্তু সেসব কথার পরীক্ষা করে দেখা গেছে সেসবও কোন কাজের নয়। তবুও লোকে সবসময়েই বিভিন্ন টোটকা ব্যবহার করে নেশার হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়। সেরকমই এক জিনিস কদিন আগেও ছিল, ই-সিগারেট।

এই সিগারেট ব্যাটারি চালিত একটি যন্ত্র। ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেমই হল ই-সিগারেট। এমনি সিগারেটের নিকোটিন হার্টে প্রবেশ করে ক্ষতি করলেও ইলেক্টনিক পদ্ধতিতে এই ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায় আরোই। অনেককেই আজকাল দেখা যায় পকেটে করে ই-সিগারেট নিয়ে যেতে।

কিন্তু দেশ থেকে আস্তে আস্তে ব্যান করে দেওয়া হচ্ছে এই ই-সিগারেট। শরীরের অসম্ভব ক্ষতি হয় এর থেকে। দেখা গেছে একবার এই জিনিস গোটা দিন ধরে খেলে সেটা সাধারণ সিগারেটের চেয়েও অনেক বেশী হার্টের ক্ষতি করে।