ভুলেও এই কাজগুলো করবেন না অম্বুবাচীর ব্রত চলাকালীন, অনর্থ হবে…

0
11235

কিছুদিন আগেই অম্বুবাচী শুরু হয়েছে। আষাঢ মাসে রবি মিথুন রাশিস্থ আর্দ্রা নক্ষত্রের প্রথমপাদে অর্থাৎ এক চতুর্থাংশ স্থিথিকালে পৃথিবী বা ধরিত্রী মা ঋতুময়ী হন। সেই সময়টিতে অম্বুবাচী পালন করা হয়। এই অম্বুবাচীর সময় দেবী দর্শন নিষিদ্ধ থাকে। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে এমন কিছু কাজ রয়েছে যা অম্বুবাচীতে করা উচিত নয়। তাহলে জেনে নেওয়া যাক সেগুলি সম্পর্কে।

১। এই সময়ে কোন বিশেষ পূজা করা উচিৎ নয়। তবে অনেক বছর এই সময় জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা পড়ে, সেটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই করতে হবে। কেননা এই সময়ে নিত্যকর্ম করা যায়, কাম্য কর্ম করা উচিৎ নয়। আর রথযাত্রা নিত্যকর্ম।

২। এই সময়ে গৃহপ্রবেশ, বিবাহ ও অন্যান্য শুভ কাজ করা উচিৎ নয়। এই সব কাজ করলে তা অশুভ হবে বলে মনে করা হয়। ৩। অম্বুবাচীতে ভূমিকর্ষণ ও বৃক্ষরোপণ করা উচিৎ নয়। কারণ এই সময় ধরণী ঋতুমতী হয়। ৪। অম্বুবাচীতে গুরুপূজা করা যায়। গুরু যদি নারী হন, অর্থাৎ গুরুমা হন, তা হলেও পূজা চলে।

৫। তুলসি গাছের গোড়া এই সময় মাটি দিয়ে উঁচু করবেন। যারা শাক্তমন্ত্রে দীক্ষিত, তারা জপ করতে পারেন। কারণ জপে কোনও দোষ নেই। ৬। এই সময় আদি শক্তির বিভিন্ন রূপ, যেমন কালী, দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, বিপত্তারিণী, শীতলা, চণ্ডীর মূর্তি বা পট লাল কাপড়ে ঢেকে রাখতে হয়। দেবী দর্শন করতে নেই।

৭। অম্বুবাচীতে ভুলেও মূর্তি বা পট স্পর্শ করা উচিৎ নয়। অম্বুবাচীর নিবৃত্তির পর আচ্ছাদন খুলে আসন ধুয়ে দেবীকে স্নান করিয়ে পূর্বের মতো পূজা ও আম-দুধ নিবেদন করবেন। ৮। পূজার সময় কোনও মন্ত্র পাঠ করতে নেই, কেবল ধূপ-দীপ দেখিয়ে প্রণাম করলেই হবে।

অম্বুবাচীর সময় দীক্ষিত ব্যক্তিরা মেনে চলুন নিম্নলিখিত নিয়মগুলি। আশ্চর্য ফল পাবেন ঃ- ১। অম্বুবাচীতে গণেশ বিগ্রহ দর্শন করুন ও ভক্তি ভরে পূজা করুন। ২। মধ্যরাতে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভের জন্য মনে মনে প্রার্থনা জানান দেবী কামাক্ষ্যাকে।

৩। সর্পভয় নিবারণের জন্য আম ও দুধ সেবন করুন। ৪। অম্বুবাচীতে গুরু প্রদত্ত ইষ্টমন্ত্র বেশি সম্ভব জপ করুন। ৫। অম্বুবাচীতে বিধিপূর্বক অগ্নিস্থাপন করে ইষ্ট মন্ত্রে হোম করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here