রেড মিট খেতে ভয় নেই, নিশ্চিন্তে খান, আশ্বস্ত করলেন গবেষকরা…

0
4135

খাওয়া দাওয়া আর বাঙালি এ যেন এক অপূর্ব জুটি। কব্জি ডুবিয়ে না খেলে মনই ভরে না। তাও যদি হয় মাংস হয়, তাহলে তো আর কথাই নেই। আর উৎসবের মরসুমে তো মাংস চাই। বাঙালি মাংস দিয়ে ভুরিভোজ করবে না সেটা হতেই পারে না। আর পাতে যদি কচি পাঠার ঝোল পরে তাহলে তো সোনায় সোহাগা।

কচি পাঠার সাথে বাঙালির যেন সাত জন্মের সম্পর্ক। জন্মদিন থেকে শুরু করে বিয়েবাড়ি হোক কি পুজো হোক, পাঠার মাংস হলে বেশ ভালোই হয়। কিন্ত বিভিন্ন কারনে চাইলেই সবাই পাঠার ঝোল খেতে পারে না। নানারকম রোগের কারনে ইচ্ছা থাকলেও উপায় থাকে না।

বিশেষ করে যাদের হার্টের সমস্যা তাদের কচি পাঠার স্বাদের থেকে দূরে থাকতে হয়। তাদের যেন পিছন থেকে এক অদৃশ্য দড়ি ধরে থাকে আর বলে ভুল করেও রেড মিট নয়, খেলেই বিপদ। তাই শত ইচ্ছা থাকলেও বাড়ির চাপে বা নিজের শরীরের কথা ভেবেই হোক তারা রেড মিট থেকে বিরত থাকেন।

লোভ সম্বরন করে পাঠার জায়গায় মুরগি খেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। ব্যাপারটা অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত হয়ে যায়। আর এই ধারনাও ভুল নয়, একটা বয়েসের পর রেড মিট যে হার্ট দুর্বল করে দেয়। হার্টের সমস্যা তৈরি করে সেটা চিকিৎসকরা বলেছেন।

তারাই মানা করেছেন রেড মিট খেতে, ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে রেড মিট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। আবার অনেকেই খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। কিন্ত সম্প্রতি এক গবেষণার পর গবেষকরা ঠিক উল্টো কথা বললেন।

ম্যাকমাস্টার ও ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন ৫৪ হাজার মানুষের উপর ১২ টি ট্রায়ালের পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে রেড মিট খাওয়ার সাথে ডায়বেটিস বা ক্যন্সারের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি হৃদরোগের কোনো সম্পর্ক নেই রেড মিটের সাথে। এই খবর শোনার পর ভোজন রসিক বাঙালিরা তো আনন্দিত হবেনই, তারা যেন হাতে প্রান ফিরে পাবেন।

কিন্ত এর সাথে একটা কথা মাথায় রাখতেই হবে এটা গবেষণালব্ধ ফল, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যিক। গবেষকরা এও জানিয়েছেন চিকিৎসকের মানা থাকলে রেড মিট খাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ করে নেওয়া জরুরি। কারন দৈহিক গঠন অনুযায়ী খাদ্যতালিকা তৈরি হয়, আর কারুর দৈহিক গঠন তার চিকিৎসকরা ভালো জানেন।