টানা তিন ঘণ্টা ধরে কলকাতা থেকে দেখা যাবে সূর্যগ্রহণ…

0
7651

গ্রহণ একটি প্রাকৃতিক জিনিস। এর পিছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর অবস্থানের পরিবর্তনের জন্য গ্রহণ হয়ে থাকে। চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পরে তখন সূর্য আংশিক সময়ের জন্য বা পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলে। আমাবস্যার পর নতুন চাঁদ ওঠার সময় এই ঘটনা ঘটে থাকে।

পৃথিবীতে প্রতিবছর দুই থেকে পাচটি সূর্যগ্রহন পরিলক্ষিত হয়। তার মধ্যে দুটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়ে থাকে। একটি মহাকাশীয় বস্তু দেখার সময় যদি অন্য একটি মহাকাশীয় বস্তু তার আড়ালে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে গ্রহণের সৃষ্টি হয়।

একটি মহাকাশীয় বস্তু সম্পূর্ণ ভাবে বা আংশিক ভাবে আড়ালে চলে যেতে পারে। যখন একটি মহাকাশীয় বস্তু আরেকটি মহাকাশীয় বস্তুর আড়ালে সম্পূর্ণ ভাবে চলে যায় তখন তাকে তৃতীয় মহাকাশীয় বস্তু থেকে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ বলা হয়। আর আংশিকভাবে আড়ালে চলে গেলে তাকে আংশিক গ্রহণ বলা হয়ে থাকে।

সূর্যগ্রহণ কেন হয় – এই সময় সূর্যের আলো চাদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে চাদের ছায়া পৃথিবীর উপর পরে। সূর্যের আকার অনেক বড়ো বলে গ্রহনের সময় চাদ পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। বিশেষ করে চাদের চারপাশ দিয়ে সূর্যের ছটামন্ডল ও বর্ণমণ্ডল উজ্জল ভাবে দেখা যায়। একে বলয়গ্রাস বলা হয়।

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা থেকে সূর্যগ্রহনের পর্যায়কাল মাপার চেষ্টা শুরু করা হয়েছিল। ওই সময় জ্যোতিষীরা লক্ষ্য করেন যে প্রতি ১৮ বছর ১০ দিন পর গ্রহণ পরপর পুনরাবর্তিত হয়। পূর্ণগ্রাস গ্রহনে দিনের বেলা হটাৎ করে রাতের অন্ধকার নেমে আসে। চারিদিকের পরিবেশে পরিবর্তন হতে থাকে। তাপমাত্রা কমতে থাকে।

চলতি মাসে আবার সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। শেষ সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ২০১৬ সালে। ভারতের দক্ষিন দিকে ভালোভাবে দেখা যাবে এই দৃশ্য, আর কলকাতাতেও দেখা যাবে এই দৃশ্য। আগামী ২৬ শে ডিসেম্বর দেখা যাবে এই গ্রহন। ২০১৬ তে ভারতে না হলেও কাছাকাছি এলাকার উপর দিয়ে গিয়েছিল সূর্যগ্রহণের পথ।

কলকাতা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলে আংশিক দেখা গিয়েছিল সূর্যগ্রহন। এবার কলকাতা ছাড়াও দার্জিলিং ও কোচবিহার থেকে দেখা যাবে এই সূর্যগ্রহণ। সুত্রের খবর ৩ ঘণ্টা ৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে এই গ্রহন, সকাল ৮ টা ২৭ মিনিট থেকে ১১ টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত চলবে এই গ্রহণ।