সমুদ্রের জলস্তর বাড়বে ১০ গুণ, মহাপ্রলয়ের মুখে শহর কলকাতা…

0
4686

দ্য ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন চেঞ্জিং ক্লাইমেট এর নাম শুনেছেন? না আপনি বলতেই পারেন, এত কঠিন নাম শুনে কি হবে? পৃথিবীর বদলে যাওয়া ও আবহাওয়া নিয়ে কাজ করে এই সংস্থা। রাষ্ট্রসংঘের সদস্য ১৯৫টি দেশ মিলে জানিয়েছে এই খবর। খুব শিগগিরি এই খবর দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়েছে। কলকাতাও বাঁচতে পারবে না এই মহাপ্রলয়ের হাত থেকে এমনটাই জানিয়েছে তারা।

পৃথিবীর ম্যাপে যেখানে তিন ভাগ জল সেখানে এই খবর খুবই ভয়ানক সে নিয়ে কোন সন্দেহই নেই। অনেক দেশই এই আসন্ন দুর্যোগের খবর আগে জানতে পেরে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিতে শুরু করে দিয়েছে। গোপন কারখানায় বড় বড় জলযান তৈরির খবর শুনতে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দেশ জুড়ে।

কিছু কিছু গোপন ছবিও বাইরে আসছে ইতিমধ্যেই। আমাদের প্রিয় শহর কলকাতা ভেসে যেতে পারে এই সম্পর্কে অবশ্য মুখ খুলছেন না বর্তমানে কোন মানুষই। স্পেশাল রিপোর্ট অন দ্য ওশন অ্যান্ড ক্রায়োস্ফিয়ার ইন এ চেঞ্জিং ক্লাইমেট অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে উষ্ণায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন যে হারে বেড়ে চলেছে সেই হার আটকানো বা ঠিক করা এখন আর সম্ভব নয়।

টিভি এবং অন্যান্য নানা জায়গায় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হলেও পরিবেশ নষ্ট করার দায় মানুষ যেন নিজের হাতেই তুলে নিয়েছে। এত পরিবেশ দূষণ আসলে মানুষের জন্যই। অনেক শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ পরিবেশকে ভালোবেসে এগিয়ে এলেও সবাই আসেনি।

তাই এই বড় বিপর্যয় কোনোভাবেই আটকানো সম্ভব হয়ে উঠছেনা। রিপোর্ট অনুযায়ী গোটা পৃথিবীর জলস্তর ফুলে ফেঁপে ১০ গুণ হয়ে যাবে। সেই জলস্তর গিলে নেবে পৃথিবীর অধিকাংশ বড় শহরগুলো। শুধু তাই নয়, এই জলস্তর বৃদ্ধি ঘটবে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। তার কারণ বরফ গলবে অনেক দ্রুত গতিতে।

হিমবাহ গলবে এক-তৃতীয়াংশ হারে। ২০৬০ সালের মধ্যে এভাবেই বরফ গলে পৃথিবীর অধিকাংশ পাহাড় যাবে হাপিস হয়ে। মুম্বাই, সুরাট এবং চেন্নাই ছাড়াও বিশ্বের ৪৫টি উপকূলবর্তী এবং বন্দর শহরগুলির জলস্তর এক মিটার করে বৃদ্ধি পাবে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতা-চেন্নাইয়ে যা ঘটবে তার একেবারে বিপরীত ছবি দেখা যাবে উত্তর ভারতের কিছু শহরে। তীব্র জলসঙ্কটে ভুগবে সেসব জায়গা। অঞ্জল প্রকাশ-কো-অর্ডিনেটিং লিড অথর এর কথা অনুযায়ী হিন্দুকুশ-হিমালয় পর্বতমালা অঞ্চলে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশী দেখা যেতে পারে। গঙ্গা, সিন্ধু এবং ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় অবশ্যই দেখা যাবে বন্যা।