জঙ্গি হামলায় মৃত শহীদের স্ত্রী কে বিয়ে করে নতুন জীবন দিলেন এই যুবক…

0
22907

এই ঘটনাটি আফগানিস্তানের জালালাবাদের। ঐ গ্রামের এক বাসিন্দা নয় বছর পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি কর্মক্ষেত্রে থাকেন গ্রামের বাইরে। তিনি ট্রেন থেকে নেমে গ্রামে যাওয়ার কোন বাস পেলেন না। তাই অগত্যা হাটা লাগালেন। তার মুখে গ্রামে ফেরার আনন্দ স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল। আর সেই আনন্দে তার এত পথ হাঁটার কষ্ট, কষ্ট বলেই মনে হচ্ছিলনা।

তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের দেখার ইচ্ছা ছিল প্রবল। আর তার সঙ্গে তিনি ভাবছিলেন সেই মেয়েটির কথা যাকে আজ পর্যন্ত নিজের মনের কথা বলতে পারেননি। মেয়েটির নাম হল আফসানা। সেই মেয়েটি কোনদিন সালমানের সঙ্গে কথা বলেনি আর না কোনদিন সালমান মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেছে।

শুধু মনে মনে সালমান আফসানাকে ভালোবেসে এসেছেন। মেয়েটির সুন্দর গোল মুখের কথা বার বার তার চোখে ভেসে উঠছে। তার কথা ভাবতে ভাবতে তিনি কখন গ্রামে পৌঁছে গেছেন তা বুঝতেও পারেননি। সালমান যখন গ্রামে প্রবেশ করেন তখন একটি বট গাছের নীচে দেখে একটি মেয়ে সাদা শাড়ি পড়ে বসে আছে।

সালমান তার কাছে গিয়ে তার মুখ দেখে চমকে ওঠেন। আর বলে ‘আফসানা তুমি?’ সালমানের দিকে তাকানো মাত্র দুচোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগলো। হঠাত করে সালমানের মা পিছন থেকে ছুটে এসে তাকে বলতে থাকে তার ছেলের উপর ডাইনির নজর পড়েছে।

আফসানা নাকি ডাইনি। কিন্তু সালমান শিক্ষিত ছেলে, সে এসব কথা বিশ্বাস করেনা। সালমানের মা বলে আফসানা ডাইনি, তাই বিয়ের কিছু দিনের মধ্যেই তার স্বামীকে খেয়েছে। সালমানের মা তাকে নিয়ে যায় মসজিদে নজর কাটানোর জন্য।

কিন্তু সালমানের সেদিন থেকে আর কিছু ভালোলাগেনা। শুধু আফসানার অশ্রু ঝরা মুখ মনে পড়ে। আসলে আফসানার স্বামী একজন সৈনিক ছিল। যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রান হারায় সে। এতে আফসানার কোন দোষ নেই।

সালমান সকলকে এই কথা বোঝনোর চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়। অবশেষে সে নিজেই আফসানাকে বিয়ে করে। আর তাকে বদনামের হাত থেকে রক্ষা করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here