৭ই নভেম্বর থেকে রাজ্যে ব্যান হচ্ছে গুটকা, পানমশলা। তালিকায় আছে সিগারেটও?

0
2176

নেশা মানেই সেটা খারাপ জিনিস, আর সেটা আমরা সকলেই জানি এবং বিশ্বাস করি। যে নেশাই হোক না কেনো, কোনো নেশাই স্বাস্থ্যের পক্ষে ও পরিবেশের পক্ষে ভালো নয়। আর গুটকার নেশা খুবই খারাপ এক প্রকারের নেশা। আগামী ৭ই নভেম্বর থেকে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে পাকাপাকি ভাবে বন্ধ হতে চলেছে গুটকা এবং পান মশলা।

এর আগে অনেকবার গুটকা আর পান মশলা ব্যান করা হলেও আইনের নানা রকম ফাঁক গলে বেশ রমরমিয়ে চলছিল গুটখা ব্যবসা। আর যারা গুটখা বা পান মশলা সেবন করেন তারাও মনের আনন্দে ছিল। কিন্তু এখনো এই তালিকায় যুক্ত করা হয়নি সিগারেট।

গুটকা ক্যানসারের কারণ। এই গুটকা খেয়েই অনেক মানুষ ওরাল ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করার বহু প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। টিভিতে বিজ্ঞাপন, গুটখার প্যাকেটে সতর্কিকরন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

রাজ্যের ফুড সেফটি কমিশন থেকে জারি করা হয়েছে যে এই গুটখায় বা পান মশলায় তামাক ও নিকোটিনের পরিমাণ খুব বেশি থাকে। ফুড সেফটি এন্ড স্ট্যান্ডার্ড অ্যাক্ট ২০০৬ এর ২৬ নম্বর ধারায় বলা আছে যে খাবারে নিকোটিন বা তামাক থাকে তা পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

দুই সপ্তাহ আগে পান মশলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন উত্তরাখন্ড সরকার। তার সঙ্গে সঙ্গে ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে গুটখা ও পান মশলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। শুধু গুটখা বিক্রি বলে নয়, তামাক ও নিকোটিন জাতীয় জিনিস তৈরি বা তার আদান প্রদান করাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।

এবার এই একই নিয়ম চালু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। আগামী ৭ই নভেম্বর থেকেই এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হল মানুষের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা। এরপর থেকে কেউ গুটখা বা পান মশলা ব্যবহার করলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হবে।

শুধু গুটখা ব্যবহার নয়, রাজ্যের সমস্ত গুটখা তৈরির কারখানা, স্টোর, ডিস্ট্রিবিউটর ও বিক্রি সব কিছু বন্ধ হবে বলে জানা গিয়েছে। আর কেউ এই আইন না মেনে যদি বেআইনি ব্যবসা চালায় তাহলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। কিন্তু এই অপরাধের কি শাস্তি হবে তা এখনো পরিষ্কার ভাবে কিছু কিছু জানা যায়নি।