অসুস্থ বাবার ওষুধ আনতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু ছেলের…

0
8844

মৃত্যু এমন একটি ঘটনা যাকে অতিক্রম করার ক্ষমতা আমাদের কারোর নেই। মানুষ ভাবে এক আর হয় আর এক। কিছু কিছু ঘটনা আমাদের জীবনকে আমুল পরিবর্তন করে দিয়ে চলে যায়, যা আমাদের মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। আচমকা আঘাতে মানুষ স্তব্দ হয়ে যায়। পুরোটাই যেন দুঃস্বপ্নের মতো লাগে। এরকমই এক ঘটনা ঘটেছে নদিয়ার পলাশি পাড়ায়।

অসুস্থ বাবাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে একসাথে বাড়ি আসার কথা ছিল তার। কিন্তু ওষুধ আনতে গিয়ে আচমকা হার্টঅ্যাঁটাকে মারা যায় সে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে। অফিসে অসুস্ত হয়ে পড়েন বাবা, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে ছেলে আর বাড়ি ফেরেনি, ভেবেছিল বাবাকে নিয়ে তবেই বাড়ি ফিরবে।

কিন্তু কথা আর রাখা গেল না। বাবা ছেলের এই ঘটনাতে তাদের এলাকাতে শোকের ছায়া পরেছে। তেহট্ট মহকুমার অফিসের ট্রেজারি দপ্তরের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পলাশি পাড়ার বাসিন্দা অমেরেন্দ্র অধিকারী। বুধবার বিকেলে তার বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়।

তিনি ভেবেছিলেন হয়ত সামান্য ব্যথা কমে যাবে। কিন্তু ব্যথা বাড়তে থাকে, সঙ্গে অসুস্থতাও। সহকর্মীরা তাড়াতাড়ি খবর দেয় তার বাড়িতে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসে তার ছেলে অনির্বাণ। বাবাকে নিয়ে সেখান থেকে সোজা চলে যান তেহট্ট হাসপাতালে।

সেখানে চিকিৎসকরা ভালো না বুঝে তাকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কল্যানির এম.যে.এন হাসপাতালে। সেখানে তারা জানান যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে আটান্ন বছরের অমরেন্দ্রর। হাসপাতাল থেকে বাবাকে নিয়ে একেবারে বাড়ি ফিরবে ভেবেছিল অনির্বাণ। কেবিনের বাইরে অপেক্ষা করছিল সে।

চিকিৎসকরা কিছু অসুধ আনতে বলায় সে তাড়াতাড়ি লিফট চরে। কিন্তু নিচে নেমে এসে হটাত মাটিতে পরে যায় সে। অনির্বাণকে দেখে তাকে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষ্যা হল না। মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে অনির্বাণ। চিকিৎসকরা জানান যে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে অনির্বাণের।

কম্পিউটার নিয়ে পড়াশোনা করেছিল সে। পাঞ্জাবের একটি কম্পানিতে চাকরি করত অনির্বাণ। কিছুদিন আগেই বাড়ি ফিরেছে। পাড়াতে তার নামে বেশ সুনামও ছিল। আচমকা এই ঘটনা মেনে নিতে পারছেনা এলাকার কেউই। সঙ্গে বাড়ির লোক জনও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here