গ্যাস্ট্রিক সহ বহু রোগের উপশম করে চাল কুমড়া…

0
5663

চাল কুমড়ো আমাদের সকলের কাছেই একটি পরিচিত সবজি। এটাকে আবার অনেকে ছাঁচি কুমড়োও বলে থাকেন। বাড়ির চালে বা মাচায় ফলানো হয় বলে একে চাল কুমড়ো বলা হয়। বর্তমানে জমিতেও এই কুমড়ো চাষ করা হয়। সঠিক নিয়মে চাষ করলে এর ফলন ভালো হয়। চাল কুমড়ো দিয়ে নানা রকম পদ তৈরি করে খেতে আমরা ভালোবাসি।

চাল কুমড়ো দিয়ে তরকারি, মোরব্বা, হালুয়া, পায়েস ও কুমড়ো বড়ি তৈরি করে খাওয়া হয়। শুধু চাল কুমড়ো নয়, এই গাছের পাতা থেকে শুরু করে কচি ডগা সবই খাওয়া উপকার। এর পাতা ও কচি ডগা শাক হিসাবে খাওয়া হয়।

চাল কুমড়ো একটি পুষ্টিকর সবজি। এতে থাকা ভিটামিন, মিনারেল, শর্করা ও ফাইবার শরীরের জন্য খুবই উপকারি। চাল কুমড়ো যক্ষ্মা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসট্রিকের মত অনেক রোগ সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। আরও কি কি উপকারে লাগে এই সবজি আসুন জেনে নেওয়া যাক

১। গ্যাসট্রিক আলসার দূর করে – চাল কুমড়ো অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট হিসাবে কাজ করে পেটে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর করে। এটি আলসার রোগের সঙ্গে লড়াই করে। দীর্ঘদিন ধরে বেশি মশলা যুক্ত খাবার বা অনেক দিন ধরে উপবাস করে থাকার ফলে পাকস্থলিতে যে অ্যাসিড তৈরি হয় সেটাই গ্যাসট্রিক আলসারের প্রধান কারণ। চাল কুমড়ো খেলে এই রোগের উপশম হয়।

২। মানসিক রোগীর পথ্য – চাল কুমড়ো মস্তিষ্কের নার্ভগুলিকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তাই মানসিক রোগীদের পথ্য হিসাবে চাল কুমড়ো খাওয়ানো ভালো। একে ব্রেন ফুডও বলা হয়।

৩। যক্ষ্মা রোগের ওষুধ – যক্ষ্মা রোগের উপসর্গ হল কাশির সাথে রক্তপাত। প্রতিদিন চাল কুমড়োর রস খেলে এই উপসর্গ কমে যায়। চাল কুমড়ো যক্ষ্মা রোগের এই রক্তপাত বন্ধ করতে সাহায্য করে।

৪। ওজন কমাতে সাহায্য করে – যারা বেশ স্বাস্থ্য সচেতন তাদের জন্য চাল কুমড়ো বেশ উপকারি একটি খাবার। চাল কুমড়ো শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে। এটি রক্ত চলাচল অনেক সহজ করে তোলে। এটি বেশি ক্যালোরি যুক্ত খাবার হিসাবে খাওয়া হয়।

৫। ত্বকের জন্য উপকারি – চাল কুমড়োর রস প্রতিদিন চুলে ও ত্বকে মাখলে চুল পরা বন্ধ হয় এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়। ত্বকে বয়সের ছাপ দেরিতে পড়ে। চাল কুমড়ো খাওয়া শরীরের সব ক্ষেত্রেই উপকারি। এছাড়া চাল কুমড়ার বিচি গ্যাস্ট্রিক রোগের উপশম করে। কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা এবং প্রস্রাব কোনো কারণে অনিয়মিত হয়ে গেলে চাল কুমড়া খেলে অনেক উপকার হয়।