মর্নিং ওয়াকে বেড়িয়ে পেলো জল তেষ্টা, কুঁড়ে ঘরে ঢুকে রুটি-গুঁড় খেলেন অক্ষয়…

0
2310

জীবন থেকে সব সময়ই শিক্ষা নেন এবং সবাইকে শিক্ষা দেন অক্ষয় কুমার। তিনি রোজ সকালে নিয়ম করে মর্নিং ওয়াকে বের হন। সঙ্গে করে নিয়ে যান তার মেয়ে নীতারাকে। সেদিনও তিনি একইভাবে বেড়িয়েছিলেন মর্নিং ওয়াকে। কিন্তু সেইদিনটি অন্যদিনের থেকে একটু আলাদা ছিল। তার জীবনে অন্য এক অভিজ্ঞতা হয়েছিল সেদিন। সেই অভিজ্ঞতার কথা তিনি জানিয়েছেন ইন্সটায় ও টুইটারে।

মানুষের উপর আস্তে আস্তে সকলে হারিয়ে ফেলছে বিশ্বাস। এতটাই হারিয়ে ফেলছে যে পৃথিবী ভরে যাচ্ছে ঘৃণায়। এই ধারণা থেকে একবারেই অন্যরকম অক্ষয় কুমারের জীবনের এই ঘটনা। তিনি মানুষের উপর বিশ্বাস করেন এবং সবসময়েই এমন কোন কাজ করেন যাতে মানুষ তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হন।

তিনি সবসময়েই চান মানুষের মধ্যে থাকুক হাসি খুশি সত্ত্বা। তিনি কমেডি মুভিও কেবলমাত্র এই জন্যই করেন যাতে মানুষ প্রাণ খুলে হাসতে পারে। তার মতে পৃথিবীতে হানাহানির পরিমান বেশী। মানুষ হাসবে তো মোটে কটা দিন। তার জন্য যা খুশী করা যেতেই পারে।

তিনি নিজেও পরিশ্রম করেন এবং নিজের ছেলে-মেয়েদেরও তৈরি করছেন ঠিক সেইভাবেই। তার মতে একমাত্র কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই তৈরি হতে পারে অসাধারণ মানুষ। তিনি নিজে প্রতিদিন হাটতে যান এবং সকালে ওঠা তার অনেক পুরনো দিনের অভ্যাস।

সেই অভ্যাস থেকেই তিনি একদিন সকালে হাটতে বেড়িয়েছিলেন নিজের মেয়ে নীতারার সঙ্গে। মেয়েও তার সঙ্গে প্রতিদিন সকালে অনেকটা হাঁটে। সেই হাটতে হাটতে ছোট্ট নীতারার জল তেষ্টা পেয়। কোথাও কিছু পাওয়া যাচ্ছিল না। সেই সময় বাবা অক্ষয়ও হয়ে পড়েছিলেন অসহায়। কি করবেন বুঝতে পারছিলেন না কিছুতেই। একটু এগিয়েই তিনি খুঁজে পেলেন একটি কুড়েঘর।

ফিল্ম স্টার হওার সাথে সাথে অক্ষয় একজন মাটির মানুষও। অন্য কোন ফিল্ম স্টার হলে তারা হয়তো বাইরে থেকে ডাকতেন, ভিতরে ঢুকতেন না একেবারেই। কিন্তু অক্ষয় তো অক্ষয়। তিনি সোজা ঢুকে গেলেন বাড়ির ভিতরে। সেই কুঁড়েঘরে ছিলেন এক বৃদ্ধ এবং তার স্ত্রী।

প্রথমে একা ঢুকলেও এবারে মেয়েকেও ডেকে নেন ভিতরে। দুজনে মিলে অনেক আনন্দ করেন বাড়ির দম্পতির সাথে। নীতারার জল খাওয়া হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বেড়িয়ে না এসে অক্ষয় ভাবেন এদের সম্পর্কে মানুষদের জানা দরকার। গোটা ঘটনার ছবি আপলোড করে তাই তিনি ট্যুইট করলেন নতুন জীবনের পাঠ শিখলাম। এদের আতিথেয়তা অনেক কিছু শেখালো আমাদের।