তৃতীয় লিঙ্গের সেরা সুন্দরী হওয়ার দৌড়ে জলপাইগুড়ির বৌমা অ্যানি…

0
9851

বেশ কয়েক দিন হয়ে গেলো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অধিকার নিয়ে সরব হয়েছে গোটা দেশ দুনিয়া। আমাদের দেশেও এর প্রভাব পড়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের আগে নানা ভাবে অসন্মান করা হত, কিন্তু এরপর থেকে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরাও যে মানুষ সেটা এখন থেকে সবাইকে মাথায় রাখতে হবে।

মন থেকে তিনি নারী হলেও শরীরী ভাষায় তিনি ছিলেন পুরুষ। তাই প্রচুর বাধা আসলেও সেই বাধা অতিক্রম করে লিঙ্গ পরিবর্তন করে অনিক দত্ত হয়ে ওঠেন অ্যানি। ২০১৮ সালে অ্যানির সঙ্গে বিয়ে হয় জলপাইগুড়ির নয়াবস্তির বাসিন্দা সাগ্নিক চক্রবর্তীর।

এবার জলপাইগুড়ির বৌমা অ্যানির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। এই বছরের মিস ট্রান্স ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতার শেষ বারোজনের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন অ্যানি। এবার তার লক্ষ্য সেরা হওয়া। এই রবিবার প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে দিল্লিতে। তৃতীয় লিঙ্গের ভারতীয় সুন্দরীর খেতাব জয়ী হলে অ্যানির লক্ষ্য বিশ্বের দরবারে নিজেকে মেলে ধরা।

২০১৪ সাল থেকে তার লিঙ্গ পরিবর্তের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং টানা দেড় বছর এই প্রক্রিয়া চলার পর ২০১৬ এর শুরুর দিকে অনিক পরিবর্তিত হয় অ্যানি-তে। তারপর একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন অ্যানি। ২০১৬ সালে সাগ্নিকের সঙ্গে আলাপ হয় অ্যানির। তারপর শুরু হয় প্রেম। সাগ্নিকও পেশায় স্কুল শিক্ষক।

দুবছরের প্রেমপর্বের পর তারা সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করার। অ্যানি বলেন, ‘বিয়ের আগেও মডেলিং করতাম। কিন্তু সংসারে মন দেওয়ার জন্য ছয়মাস মডেলিং থেকে দূরে ছিলাম। স্বামীর উৎসাহেই ফের মডেলিং শুরু করি। ট্রান্স ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় শেষ ১২তে স্থান পাওয়ায় আমি খুব খুশি।

রবিবার এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল। সবাই আশীর্বাদ করুন, যাতে আমি আরও এগিয়ে যেতে পারি। ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যেতে চাই।’

বৌমার সাফল্যে খুশি তার শ্বশুর সুব্রত চক্রবর্তী। সুব্রত বাবু বলেন, ‘অ্যানির জন্য আমরা গর্বিত। সবদিক সামলে আমাদের বৌমা যেভাবে এগিয়ে চলেছে তাতে আমি নিশ্চিত ওর স্বপ্ন সফল হবেই।’ অ্যানিকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here