ফনির পরও রেহাই নেই মানুষের, আবার আসতে চলেছে এক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়…

0
51169

মে মাসের শুরুতেই এক বিশাল ধাক্কা দিয়ে গেল ঘূর্ণি ঝড় ফনি। মে মাসের দুই তারিখ নাগাদ বঙ্গপসাগরে উৎপত্তি ঘটে এই ঝড়ের। তারপর সেই ঝর বঙ্গপসাগর হয়ে আছড়ে পরে ওড়িশার পুরী উপকুলে। এক বিরাট ক্ষতি সাধন করে সে এগিয়ে আসে এবং দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে দিয়ে সে প্রবেশ করে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গেও এর দ্বারা ক্ষয় ক্ষতি হয় প্রচুর।

ওড়িশার পুরী উপকুলে আঘাত হানে এই ঝড়। তখন এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার ছিল এবং তার ছাপ রেখেছে সে তার ধ্বংসলীলায়। পুরী মন্দিরের ওপরের পতাকা উড়ে যায় এই ঝড়ের কিছু আগেই, ঝড়ের ফলে কিছু ক্ষয়ক্ষতিও হয় মন্দিরের।

বহু বাড়ি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, একটি স্টেডিয়ামের ওপরের টিনের ছাদ উড়ে যায়। ভেঙ্গে পরে যায় বহু বাড়ির পিলার। হাওয়ার দাপটে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় বহু স্তম্ভ এবং স্কুলের কাঁচের জানলা। এমন কি কাঠের জানলাও নিস্তার পায়নি এই ঝড়ের দাপট থেকে। প্রায় ১০ জন মানুষ মারা যায় ফনির অত্যাচারে।

এরপর এই ঝড় ঢোকে পশ্চিমবঙ্গে। সুন্দরবন উপকুলে বিরাট ক্ষয়ক্ষতি করে ফনির বিধ্বংসী আগমনে। বহু বাড়িঘর তছনছ করে দেয় ফনি। গ্রামের মানুষের মত ভগান্তির শিকার হয় শহরের পথবাসী মানুষরা। যদিও বঙ্গে কোন হতাহতের খবর আসেনি।

ফনির জন্যে সরকারি সতর্ক বার্তা জারি করে কলকাতা আবহাওয়া দপ্তর এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারও। স্কুল কলেজ ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে অনেক বিমান বাতিল করা হয়। বাংলাদেশেও ফনির প্রভাবে ক্ষয় ক্ষতি কম হয়নি। সেখানেও ফনি নিজের বিধ্বংসী চরিত্র বজায় রেখেছে।

ফনির আঘাতে খতিগ্রস্ত ওড়িশা এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। প্রায় দুই দিন সমস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল কিছু কিছু এলাকায়। এর প্রভাব কাটতে না কাটতেই আরেকটি ঘূর্ণি ঝড়ের পূর্বাভাস দিলো আবহাওয়া দপ্তর।

আরেকটি ভয়াভহ ঘূর্ণি ঝড় আসতে চলেছে, এর নাম হল বায়ু, ফনির নাম দিয়েছিলো বাংলাদেশ। ২৬ শে মে নাগাদ এই ঝড় এর চরম আকার ধারন করবে বঙ্গপসাগরে বলে জানিয়ে আবহাওয়া দপ্তর। ২৬ শে মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে এই ঝড়ের উতপত্তি হবে। কিন্তু কোথায় এর প্রভাব পড়বে তা এখন জানা যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here