বাংলা ভাষার রং টুকু খুঁজে…

0
708

Entrepreneurship আসলে একটা লড়াই এর গল্প। একটা দীর্ঘ পথ ধ’রে একটু একটু ক’রে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। লক্ষ্যে পৌঁছনোর ইচ্ছের গল্প। না থেমে যাওয়ার এই গল্প আজকের দিনে খুবই প্রাসঙ্গিক কারণ মানুষ আজকাল থেমে যায় খুব সহজেই। আর স্বপ্ন ধরতে চাওয়ার ইচ্ছেগুলোও যেন মরে যাচ্ছে খুব ধীরে। তাই তারই মাঝে যখন একজন সেই স্বপ্নকেই বাস্তবায়িত করতে নিজের ভালোবাসার কাজ নিয়ে এগিয়ে চলেন অনেকটা পথ, তখন হয়তো একটা ভালোলাগা কাজ করে আমাদের মধ্যেও।

এরকমই একজন হলেন শাঁওলী মজুমদার। তবে একলা চলার চেয়ে একসাথে এগিয়ে যাওয়াতেই তাঁর আগ্রহ বেশী বরাবর। ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কথাগুলোকে তিনি বোধহয় মূলমন্ত্র করেছেন জীবনের। শুরুটা হয়েছিল মহুল আবৃত্তির ব্যান্ড দিয়ে। কবিতা ও সুর মিলিয়ে তৈরী হয় এক-একটা কম্পোজিশন যা সৃষ্টি করে অন্য এক নিজস্ব ঘরানার।

এই অভিনব যুগলবন্দীর দেখা পাওয়া যায় কম। তাই মানুষের আগ্রহও বেশী। কিন্তু যেসব কাজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকেন এত মানুষ সেইসব কাজে থেকেই যায় একটা যায় রুজি- রুটির চিন্তা। এই বেঁধে যাওয়াটুকু যাতে না ভাঙে সেজন্য শাঁওলী নিজের দ্বিতীয় পদক্ষেপ নেন। তৈরী করেন মহুল স্টুডিও। ১ থেকে ২ সেখান থেকে ৫।

৫টি আলাদা স্টুডিও তাঁর। বর্তমানে মহুল স্টুডিও টালিগঞ্জে , বিনোদনের একেবারে কেন্দ্রস্থলে। সবটাই সম্ভব হয়েছে ব্যান্ড যাতে ভেঙে না যায় সেই ইচ্ছে থেকে এবং সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো ব্যান্ডের সমস্ত সদস্যরাই এই স্টুডিওর কোন না কোন কাজের সঙ্গে যুক্ত।

নিজেদের কাজ থেকে শুরু করে সমান তালে বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের শিল্পীদের আনাগোনা চলে মহুল স্টুডিওতে কাজের সুত্রে। কি নেই সেখানে? ওয়েব সিরিজ, কবিতা, গান থেকে শুরু করে সিনেমার কাজও হয় মহুল স্টুডিওতে। বাঙালির সব কাজেতেই কেমন করে যেন জুড়ে যায় রবীন্দ্রনাথের জীবনদর্শন।

সাহিত্যের ছাত্রী শাঁওলীর মতেও জীবনের চালিকাশক্তিই তাঁকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছে কাজগুলো। নাহলে যে পরিবার থেকে কেউ কখনো ব্যবসা করেননি সেই পরিবার থেকে তিনি এসে কেনই বা ব্যবসা করবেন? আর নতুন নতুন কাজের সঙ্গে জুড়ে থাকতে সবসময় পছন্দ করেন তিনি।

তিনি মনে করেন কাজকে নিয়মের ঘড়িতে বেঁধে দিলে কাজ চলতে থাকে আপন গতিতে। তাকে নিয়ে তখন আর ভাবতে হয় না । এই আপন গতিতে চলার নিয়মেই শাঁওলী আবার তৈরী করেছেন প্যাস্টেল এন্টারটেনমেন্ট। বাংলা গান, নাটক, আড্ডা , গল্প, কবিতা , উপন্যাস- মূলত বাংলা ভাষায় সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়েই কাজ করে প্যাস্টেল।

অনেকেই শাঁওলীকে জানিয়েছিলেন তাঁরা মহুলের সঙ্গে যুক্ত হতে চান। কিন্তু ব্যান্ডের একটা নিজস্ব পরিসর , নিজস্ব পরিধি আছে। তাতে অন্য কাউকে যুক্ত করা সম্ভব নয়। তাই প্যস্টেল এর জন্ম। একান্নবর্তী পরিবারে জন্মেছেন শাঁওলী। সবাইকে নিয়ে তাই এই কাজ করার সুযোগ ছাড়তে চাননি তিনি। প্যাস্টেলের কাজের তালিকায় আরো একটি বড় ব্যাপার আছে।

সেটা হল বাঙালিয়ানা। বাঙালি আড্ডা ছাড়া বাঁচতে পারে না। অল্প খাওয়াদাওয়া সাথে দেদার আড্ডা । বাঙালি বলতেই প্রথমে এই ছবিটাই মনে আসে। শাঁওলীর সব কাজের সঙ্গেই জুড়ে থাকে এই বাঙালিয়ানার ছাপ। কারণ মনে প্রাণে আমরা তো বাঙালি। সেই ঐতিহ্য কিছুতেই ভুলতে পারেননা শাঁওলী।

কারণ তাঁর মনে হয় এইরকম একসাথে বাঙালিয়ানার মধ্যে বাঁচতে না পারলে ,একসাথে একে অপরকে সাহায্য না করতে পারলে আমরা আলাদা হয়ে যাব। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে গোটা সমাজটাই। এটা মেনে নেওয়া যায় না একেবারেই। পাশ্চাত্য ছাপে আস্তে আস্তে তলিয়ে না গিয়ে সেটার সাথেই বাঙালিয়ানাকেও মিশিয়ে নিয়ে এগিয়ে চলাই বোধহয় কাম্য।

তাই মহুলের কাজে বিদেশী বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার হলেও বিষয় সম্পূর্ণ বাংলা এবং শুধুমাত্র বাংলা নিয়ে কাজ করা প্যাস্টেলও এগিয়ে চলে এই একই পথ ধরে। মোমরঙ নিয়ে ছোটবেলায় ছবি আঁকতে শুরু করেছিলাম আমরা। চলার পথে হারিয়ে গেছে ছোটবেলা। হারিয়ে গেছে মোমরঙটুকুও। কিন্তু বিভিন্ন Shades এখনো আছে আমাদের মনে। বাংলা সাহিত্য , বাংলা পরিসরেও তো সেই নানান shades।

শাঁওলীও তাই খুঁজে চলেছেন সেই আলাদা আলাদা রঙ গুলোকেই । আর খুঁজে পেলেই তাতে মিশিয়ে নিচ্ছেন অনেকখানি বাঙালিয়ানা। Article সৌজন্যে – Bengal Web Solution (9903360341)