গান কিভাবে জীবনের গল্প হয়ে ওঠে জানালেন সোমদত্তা দিয়া চক্রবর্তী…

0
986

একজন শিল্পী যখন মঞ্চে ওঠেন তখন তার সামনে থাকা দর্শকেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন যে তারা কি শুনতে চলেছেন। এই সময়ে শিল্পী এবং দর্শকের যে মেলবন্ধন, সেটাই ম্যাজিকাল। এমনটাই জানাচ্ছেন সোমদত্তা দিয়া চক্রবর্তী। ছেলেবেলা থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সোমদত্তা কখনোই ভাবেননি কোনো সময় গানটাও হয়ে উঠতে পারে তার পেশা।

ছেলেবেলা থেকেই ক্লাসিকাল শিখতেন জয়ন্ত সরকারের কাছে। ছেলেবেলায় গান গেয়ে পুরষ্কারও পেয়েছেন যাদবপুর উৎসব এবং times youth challenge এ। তবে গান তখনো ধ্যান জ্ঞান হয়ে ওঠেনি তার। একটা খুব মজাদার গল্প আছে তার গানের জগতে আসার পিছনে। একটি অপছন্দের বিষয় নিয়ে প্রথমে কলেজে ভর্তি হতে হয় তাকে। বাবা তাকে ভর্তি করে দেন সেই বিষয় নিয়ে পড়ার জন্য।

সেই সাবজেক্ট থেকে পালাতে চাইতেন সবসময় তিনি। ঠিক সেই সময়েই এক বন্ধুর মা তাকে গান শিখতে বলেন একজন শিক্ষকের কাছে। তিনি অশোক ভদ্র। নতুন প্রতিভাদের অশোকবাবু সুযোগ করে দিতেন বিভিন্ন মঞ্চে। সাথে commercial training দিতেন। আস্তে আস্তে এভাবেই বিভিন্ন শো পেতে থাকেন সোমদত্তা। পরিচিতিও বাড়ে। ফলে পড়ার বিরক্তিকর জায়গাটা থেকে অনেকটাই সরে এসে পুরোপুরি গানের জগতের একজন হয়ে ওঠেন তিনি।

পড়া থেকে পালানোর এই ইচ্ছাটুকু হয়ে ওঠে গান ভালোবাসার ইচ্ছা। ছেলেবেলা থেকে বাড়ির পরিমণ্ডল ছিল গানের। পরিবারের অনেকের মনেই ইচ্ছে ছিল গান নিয়ে কিছু করার। ব্যাকিং না পেয়ে তারা এগোতে পারেননি। তাদের সেই অপূর্ণ স্বপ্নপূরণ করছেন সোমদত্তা। তবে এই গানের সফরে সবথেকে বেশি যিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি সোমদত্তার মা সর্বানী চক্রবর্তী।

অর্গানাইজারদের সাথে কথা বলা থেকে শুরু করে কোন চ্যানেলে অন্য কোন শিল্পীর গান মেয়ের গলায় ভালো লাগবে সেটাও ঠিক করে দিতেন তিনি। সোমদত্তার এই পথচলায় সঙ্গ দিয়েছে তার পুরনো কলেজ NSHM এবং এখনকার কলেজ হেরিটেজ একাডেমির শিক্ষকরাও। শিল্পীদের পক্ষে প্রতিদিন কলেজে না আসতে পারার যে অসুবিধে সেটুকু বুঝে তারা সোমদত্তাকে ছাড় দিয়েছেন অনেককিছুই।

এম এস সির ছাত্রী সোমদত্তা তাই দুটি কলেজের কাছেই কৃতজ্ঞ। সেমি-ক্লাসিকাল , গজল তিনি শিখেছেন বালু দত্তের কাছ থেকে। যা তাকে একজন পরিণত শিল্পী হতে সাহায্য করেছে। এই চলার পথে তার মিউজিসিয়ানরাও সমান ভাবে সাহায্য করেছেন সোমদত্তাকে। তিনজনের নাম না বললেই নয়। টুবলুকাকু, বাবাইদা আর অনির্বাণদা ওরফে বাঁকুদা।এরাও জড়িয়ে আছেন সমানভাবে এই সাঙ্গিতীক যাত্রার সঙ্গে। ৭বছরের এই সংগীত জীবনে সোমদত্তা প্রচুর শো করেছেন। আরো করবেন। সাথে তার ইচ্ছে আছে প্লেব্যাক করার।

Jhoom Jhoom

It's a moment of pride for us. Thank you audience for being our backbone and for constantly blessing us. We are grateful to Ei Somoy for covering us!#ShowVibes #NiceAudience #RockTheStage

Posted by Shomedatta Diya Chakraborty on Saturday, 9 November 2019

তার নিজের গানের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চলছে। কোন ব্যাক আপ না থাকার জন্য অনেকেরই অনেক স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায় অসময়ে। সোমদত্তার মতে বিশ্বাসটাই আসল। সেই বিশ্বাসেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন আরো সুর নিয়ে দর্শকের কাছে। আগামীদিনে আরো অনেক সুন্দর গান তাদের উপহার দিতে পারবেন ভেবে। Articel সৌজন্যে – Bengal Web Solution (9903360341)