ঠাণ্ডার আশায় এসি-তে আশ্রয়, মাথায় রাখুন এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া…

0
3981

গরমে নাজেহাল অবস্থা সবারই হয়। অবশ্য অফিসে সেন্ট্রাল এসি থাকায় খুব একটা অসুবিধা ভোগ করতে হয় না। কিন্তু এই সারাদিন সেন্ট্রাল এসিতে থাকার ফলে বাড়িতে সামান্য ফ্যানের হাওয়ায় অনেকেরই অসুবিধা হয়। অনেকে মেনে নিতে পারেন না সেই সামান্য পাখার হাওয়া। তাই বাড়িতেও অনেকেই এসি লাগিয়ে নেয়। কিন্তু এই এয়ার কন্ডিশনে সবসময় থাকা ভালো না খারাপ সেই নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।

ডাক্তারদের মতে এসি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই খারাপ। এসিতে থাকার অভ্যাস করলে তা শরীরের জন্য মোটেই ভালো নয়। চিকিৎসকের মতে নীরবে ক্ষতি করে চলেছে এই এয়ার কন্ডিশন মেশিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এসিতে থাকার অভ্যাস করলে চোখ ও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

এছাড়া ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা যায়। চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ থেকে জল পড়া, এইসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীরে রক্ত সঞ্চালনের ঘাটতি দেখা যায়, জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা দেখা দেয়, হাপানি দেখা দেয়। অতিরিক্ত এসির ব্যবহার রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করা হলে বাতাসে ব্যক্টেরিয়া মিশে শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত এসি ব্যবহারে গলা ব্যথা থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী কাশি হয়ে থাকে। আবহাওয়ার তারতম্যের কারনে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়।

হাতের আঙ্গুলের রক্ত সঞ্চালন কমে যায় যা মেয়েদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। চিকিৎসকের ধারণা অনুযায়ী হাসপাতালে যদি এসি নিয়মিত না পরিষ্কার করা হয় তাহলে রোগীর শরীরে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।

শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘর থেকে বা গাড়িতে এমন কিছু জীবানু বের হয় যা শরীরে সংক্রমণ ছড়ায়। শরীরে বিভিন্ন রোগের সুত্রপাত হয় ওই জীবানু থেকে। যদি কেউ অতিরিক্ত এসির মধ্যে থাকে তাহলে তার শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বেড়ে যায়।

এয়ার কন্ডিশন চোখের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে, যেমন কনজাংটিভাইটিস ও ব্লেফারাইটিস। এছাড়া যারা লেন্স ব্যবহার করেন তারাও সমস্যায় পড়তে পারেন। বেশ কিছু রোগ সৃষ্টি হয় এসির সংস্পর্শে থাকলে। যেমন ব্লাড প্রেসার, আর্থাইটিস।

বিভিন্ন ধরনের স্নায়ুর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া এলার্জির সমস্যা মারাত্মক আকার ধারন করে এই এসির ফলে। গবেষণায় দেখা গেছে যারা বেশিক্ষন এসির মধ্যে থাকেন তাদের মাথা ব্যথা বেশি করে ও তারা অবসাদে ভোগেন।