খারাপ এই অভ্যাসটি স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়াবে, বলছে গবেষণা…

0
11880

ক্যান্সার নিয়ে এখনও বিস্তর গবেষণা চলছে। এখনও পর্যন্ত এর সঠিক চিকিৎসা সুদুর ভারতে নেই। যখন আমাদের দেহের কোষগুলি অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বাড়তে থাকে তখন মাংসের দলার মত টিউমার সৃষ্টি হয়। এই টিউমার দুধরনের, বিনাইন ও ম্যালিগন্যান্ট। এই ম্যালিগন্যান্ট টিউমারই ক্যান্সারের আকার ধারন করে। এখনো পর্যন্ত ২০০ ধরনের ক্যান্সার আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে কমন ক্যান্সার হল ফুসফুসের ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার।

এছাড়াও আরও একটি ক্যান্সারের সম্ভবনা বেড়েছে যেটা হল স্তন ক্যান্সার। স্তন ক্যান্সার নারীদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। সমগ্র বিশ্বে নারীদের মৃত্যুর কারন স্তন ক্যান্সার। এখন আগের চেয়ে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ অনেকটাই বেড়েছে।

প্রতিবছর প্রায় ১৪৮৩৬ জন ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন আর তার মধ্যে ৭১৪২ জন মৃত্যুবরন করেন। স্তনের কিছু কোষ যখন অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠে তখন স্তন ক্যান্সার হওয়ার প্রবনতা দেখা যায়। অনিয়মিত ও অতিরিক্ত কোষগুলি বিভাজনের মাধ্যমে টিউমারে পরিনত হয় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পরে, তখনই ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার প্রবনতা বেড়ে যায়।

স্তন ক্যান্সার আক্রান্তের মুলত দুধরনের কারন দেখা যায়, এক অপরিবর্তনযোগ্য কারন আরেক পরিবর্তনযোগ্য কারন। অপরিবর্তনযোগ্য কারন হল জেনেটিক বংশ ও হরমোনের কারনে হয়ে থাকে, কিন্তু পরিবর্তনযোগ্য কারন হল নিজেদের হাতে, যা আমরা চাইলেই সচেতন হয়ে আটকাতে পারি।

যেমন অনেক বেশি বয়সে বিয়ে করা বা ৩০ বছরের পরে মা হওয়া বা সন্তান না নেওয়া, এসব কারনে স্তন ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ে। অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া বা খাদ্যতালিকায় সবজি না রাখা স্তন ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ায়। অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া বা শারীরিক পরিশ্রম না করা এই ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ায়।

ভুল সাইজের ব্রা ব্যবহার করা স্তন ক্যান্সারের ঝুকি অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়। সারাক্ষন ব্রা বা ব্রেসিয়ার পরে থাকার জন্য ঘাম না বেরোনো বা আদ্রতা জমে স্তন ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ায়। অনেক সময় বংশগত কারনে আক্রান্ত হতে পারেন স্তন ক্যান্সারে। অনেক সময় পিরিয়ডের শুরু ও বন্ধের সময়ের উপর নির্ভর করে স্তন ক্যান্সার।

গবেষণা বলছে প্রাত্যহিক মদ্যপান স্তন ক্যান্সারের কারন হতে পারে। অনেকেই ভেবে থাকেন অল্প পরিমানে মদ্যপান করলে স্তন ক্যান্সার হওয়ার কোনো ঝুকি নেই, কিন্তু ধারনাটা সম্পূর্ণ ভুল। প্রাত্যহিক মদ্যপানে মেনোপেজের আগে হওয়া স্তন ক্যান্সারের সম্ভবনা ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে প্রাত্যহিক মদ্যপান মেনোপেজ হয়ে যাওয়া মহিলাদের ক্ষেত্রে ৬ শতাংশ স্তন ক্যান্সারের সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয়।