আগামীকাল আছড়ে পড়তে চলেছে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মহা’…

0
3764

বাইরে এখন খটখটে রোদ, ঝকঝকে দিন। বাড়ির ব্যালকনিতে বসে আপনি কফির কাপে চুমুক দিচ্ছেন। অথবা অফিসে খুব ব্যস্ত নিজের কাজ মেটাতে। কেউ হয়তো পরিবারের বাচ্চাদের নিয়ে বেড়াতে গেছেন পার্কে। কিন্তু আপনারা ভাবতেও পারবেন না খানিকক্ষনের মধ্যে কিভাবে বদলে যেতে পারে সবকিছু। খানিকক্ষণ নয়, কিছু দিনের মধ্যেই বদলে যেতে পারে সব।

ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিমি গতিবেগে বইতে পারে ঝড়। ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কার কথা এখন আর মিথ্যে নয়। যদিও অনেকেই ভাবছেন আবহাওয়া দপ্তর সবসময়েই এরকম ঘূর্ণিঝড়ের কথা বললেও কখনোই সেটা সত্যি হয় না। তাও মাঝে মধ্যে এরকম হতেই থাকে যে দুম করে তাদের বলা কথা সত্যি হয়ে গেলো।

এবারেও সেরকমই আশঙ্কা করছেন অনেকেই। কারণ আবহাওয়া দপ্তর খুব সিরিয়াসলি বলেছেন এবারের আবহাওয়ার আশঙ্কার কথা। বুধবার রাতে বা বৃহস্পতিবার সকালেই আছড়ে পড়বে এই ঝড় উপকূলবর্তী অঞ্চলে।

১০০ থেকে ১১০ কিমি পর্যন্ত এই ঝড়ে খুবই ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা একই সাথে চেষ্টা করছেন এটা বোঝার যে ঝড় ঠিক কোনদিকে মোড় নিতে পারে, অথবা ঠিক এতটাই ভয়ঙ্কর হবে কিনা সে ঝড়। এখনো পর্যন্ত সঠিক তথ্য কিছুই জানা যায়নি।

বর্তমানে আরব সাগরের উপরে ঘূর্ণিঝড় ‘মহা’ ঘুরছে। সেখান থেকে সে এগোবে গুজরাতের উপকূলের দিকে। ইন্ডিয়ান মেট্রোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী শুধু গুজরাট নয়, মহারাষ্ট্রের উপরেও ভারী প্রভাব ফেলবে এই ঝড়।

সৌরাষ্ট্র ও দক্ষিণ গুজরাত ছাড়াও আমরেলি, ভাবনগর, ভারুচ, আনন্দ, ভাদোদরা, আমেদাবাদ, সুরাট ও রাজকোট এইসব জায়গায় ভারী বজ্র বিদ্যুৎ সহ ঝড় আসার সম্ভাবনা। মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, থানে এলাকায় তুমুল বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছেন সকলেই।

মানুষ এখন থেকেই সাবধান হলে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কম হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তবে বিরাট এলাকা জুড়ে সেটা কিভাবে সম্ভব নিয়ে ভাবতে হিমসিম খেয়ে যাচ্ছেন সকলেই। অল্প কিছু এলাকায় যেখানে প্রবল ক্ষয় ক্ষতির সম্ভাবনা সেখানে আলাদা করে সতর্কতা জারী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারের থেকে হয়তো আলাদা করে ব্যবস্থা নেওয়াও হতে পারে। আপদকালীন ব্যবস্থা ঠিক কি হতে চলেছে কেউই বুঝতে পারছেন না। যারা খবর শুনেছেন বা দেখেছেন তারা এখন থেকেই ভাবছেন ঠিক কি করা উচিত। আপনারাও ভেবে রাখুন এবং সতর্ক থাকুন।