বিয়ের চাপে বাড়ি থেকে পালিয়ে পরীক্ষার খাতায় ৯০% নম্বর ১৬ বছরের কিশোরীর…

0
1764

মেয়ে পড়তে চায়, কিন্তু বাড়ি থেকে জোর-জবরদস্তি করে বিয়ে দেওয়া হল তাকে। সিনেমায় মেয়েদের এইরকম হেরে যাবার গল্প যেমন আছে তেমনই রয়েছে বাধা অতিক্রম করে নিজের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দিয়ে জিতে যাওয়ার গল্প। কিন্তু এই ঘটনা আর গল্প নেই। বাস্তবেও এইরকম উদাহরণ লক্ষ্য করা গেলো কর্ণাটকে। পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে পরীক্ষায় ৯০% পেল কর্ণাটকের রেখা।

তখন বয়েস মাত্র ১৬ বছর, চিকাবল্লপুর গ্রামের বাসিন্দা ১৬ বছরের রেখার ওপর বাড়ি থেকে চাপ আসতে শুরু করে বিয়ে করার। বাড়ির লোকেরা জানান দেয় যে তার দায়িত্ত্ব আর তারা নিতে পারছেন না, তাই রেখাকে বিয়ে করতে হবে। কিন্তু রেখার চোখে স্বপ্ন, স্বপ্ন এক স্বাধিন জীবন দেখার।

বাড়িতে অনেক অনুরোধের পরও যখন কেউ রাজি হলনা, কেউ দাম দিলনা তার পড়াশোনা করার ইচ্ছের। তখন সে ঠিক করল যে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাবে। বাড়ি থেকে পালিয়ে এল রেখা।

পালিয়ে এসে সে উঠলো ব্যাঙ্গালুরুতে এক বন্ধুর বাড়িতে। সেখান থেকে পরে একটা পিজি, তারপর এক চাইল্ড হেল্প লাইন নম্বরে কল করে তাদের সাহায্যে কলেজে ভর্তি হয় রেখা। তারপর প্রায় দুই বছর কঠোর পরিশ্রমের পর এই বছর কর্ণাটকের পি ইউ সি পরীক্ষায় ৯০% নম্বর পায় রেখা।

সমস্ত প্রতিবন্ধকতা কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে নিজ লক্ষ্যে স্থির রেখে জীবন যুদ্ধে জয়ী রেখাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। রেখার লরাইয়ের এই গল্প যেন আরও শত শত মেয়ের মনে জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার আগুন জ্বালাতে পারে এটাই কামনা।

সুতরাং মেয়েরা শুধু ঘরে বসে ঘরোয়া কাজ করবে শুধু তাই সক্ষম নয়। এরা পুরুষদের সাথে তালে তাল মিলিয়ে এগিয়ে জেতেও সক্ষম, এবং এর নজির গড়ছে রেখার মত সাহসি নারীরাই।

বিয়ে তথা সংসারের প্রবল বাধাকে অতিক্রম করে এগিয়ে চলে জীবন সংগ্রামের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে রেখা সেই সাহশ আর উদ্যমেরই পরিচয় দিয়েছে। আরেকটা কথা না বললেই নয় যেটা হল তার পরীক্ষায় ফলাফলের নম্বর মোটেও পিছিয়ে পরার লক্ষন প্রকাশ করছেনা বরং তার সুদুরপ্রসারী যাত্রার আভাস দিচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here