ট্যাক্সি চালিয়ে হাসপাতাল গড়ে বোনের মৃ’ত্যুর বদলা নিল দাদা…

0
3389

দাদা হয়ে নিজের বোনের মৃত্যু যন্ত্রণা চোখের সামনে দেখাটা খুবই কষ্টদায়ক। কেউই চায় না তার পরিবারের লোক বিনা চিকিৎসায় প্রান হারাক। তাই শত কষ্টের মধ্যেও মানুষ চেষ্টা করে তাকে বাঁচিয়ে রাখতে। এই রকমই একটি ঘটনা ঘটেছে বারুইপুরের পুনরি গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল লস্করের সাথে। আজ থেকে ১৩ বছর আগের ঘটনা এটি।

মাত্র ১৭ বছরের একটি মেয়েকে সামান্য বুকে ব্যাথা নিয়ে প্রান হারাতে হয়েছিল। মেয়েটি ছিল সাইদুল বাবুর ছোট বোন। সাইদুল বাবু বিনা চিকিৎসায় তার বোনকে প্রান হারাতে দেখে মনে মনে প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলেন তিনি গ্রামে একটি হাসপাতাল গড়ে তুলবেন, যাতে বিনা চিকিৎসায় কাউকে কষ্ট না পেতে হয়।

কিন্তু এই হাসপাতাল গড়তে গিয়ে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন সেটা তার কাছে সম্ভব ছিল না। কারন তিনি ছিলেন একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার। কিন্তু তার মধ্যে ছিল অদম্য জেদ। আর এই জেদের জোড়েই তিনি এই স্বপ্নকে সফল করে ফেললেন।

তিল তিল কষ্ট করে জমানো টাকায় তিনি তৈরি করে ফেললেন দাতব্য হাসপাতাল। যেখানে রয়েছ ৩০টি বেডের ব্যাবস্থা। তার এই স্বপ্নকে সত্যি করার পিছনে সব থেকে বড়ো হাত তার স্ত্রীর। নিজের স্বামীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি তার সমস্ত গয়না বিক্রি করে দিয়েছেন। যতটা সম্ভব সাহায্য তিনি করেছেন।

এছাড়াও সাহায্য করেছেন তার ট্যাক্সিতে যাতায়াত করা অনেক যাত্রীরা। নাহলে ওনার একার পক্ষে এত বড় উদ্দ্যোগ সফল করা সম্ভব হত না। শুধু অর্থই নয় তার মধ্যে ছিল প্রবল ‘ইচ্ছা’, সেই ইচ্ছা দিয়ে উনি এই অসাধ্য সাধন করেছেন।

সাইদুল লস্করের তৈরি হাসপাতালের নাম মারুফা স্মৃতি ওয়েলফেয়ার। যেটা উনি নিজের গ্রামেই তৈরি করেছেন। বর্তমানে ওই হাসপাতালটাই একমাত্র ভরসা গ্রামের মানুষের চিকিৎসার জন্য। এই হাসপাতালটি তৈরি করতে মোট খরচ হয়েছে ৩৬ লাখ টাকা। এখানে বেডের সংখ্যা ৩০টি। অপিডির খরচা ২০ টাকা থেকে শুরু।

এই হাসপাতালে ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। ১২ জন ডাক্তারও আছেন। ওষুদের জোগান দেয় একটি এনজিও সংস্থা। সাইদুল লস্করের এই ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করার পিছনে তার স্ত্রী এবং তার ট্যাক্সির যাত্রীরা ছারাও পাশে ছিলেন গ্রামের লোকেরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here