“কবে বিয়ে করছিস?” দিন রাত একই প্রশ্নে বিরক্ত হয়ে প্রতিবেশীর মাথা ফাটিয়ে দিল মেয়েটি…

0
27339

পাড়ায় থাকা অনেক মুশকিল। সে ছেলে বা মেয়ে যেই হোক, নিজেদের চারপাশে প্রশ্নের ভিড় বয়ে নিয়ে চলতে হয়। ছেলে ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছে, বাবলু কাকুর প্রশ্ন সামনে না পরীক্ষা? এই সময়ে কেউ খেলতে যায়? ওমনি খেলা বন্ধ, সুড়সুড় করে উপরের ঘরে। বাবু কি করছে, কি খেলছে, কি পড়ছে, সে নিয়ে কৌতূহলের তো কারোর শেষ নেই।

সব শেষে তাদের কিছু বলতে গেলে তারা বলবে, আহা সেতো আমাদেরও নিজের ছেলে মেয়ের মত। তাই এত জিজ্ঞাসা, এত আগ্রহ। আমি কি ওর ভালো চাই না? এই প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর হয় না। তাই অন্যান্য মা বাবারা চুপ করে থেকে যান বেশির ভাগ সময়।

কিন্তু কিছু কিছু মা বাবা সমান ত্যাদোড় হন। তারা আবার ঘুরিয়ে পাড়ার লোককেই প্রশ্ন করেন। আর, আপনার ছেলের কি খবর? পাশের পাড়ায় যে একটা মেয়েকে বাইকে নিয়ে ঘুরছিল দেখলাম। চলে চড়চাপড়, চলে ঝগড়া। এভাবেই টিকে থাকতে হয় পাড়ায়।

কিন্তু মুশকিল অন্য জায়গায় আসে। মেয়েদের ব্যাপারটা শুধু প্রশ্নে থেমে থাকে না। চলে আসে তাদের চরিত্রে। এক মেয়ে চাকরি করে, এক মেয়ে দেরী করে বাড়ি ফেরে, সেটা লোকেদের চোখে লাগে। কানাকানি শুরু হয়। সবাই তো চাকরি করে বাপু, ওই মেয়ে এত দেরি করে কেন? নিশ্চয়ই অন্য কোন ব্যাপার আছে। নিশ্চয়ই কোন ছেলের সাথে ঘুরে ফিরে বাড়ি ফেরে রাতে।

অনেকসময় শুধুমাত্র ঘোরার কথাতেই থেমে থাকে না, চলে যায় আরও খারাপে। চলে আসে শরীরের কথা, যৌবন বেচে খাওয়ার কথাও। কিন্তু সব থাকে গোপনে। কিন্তু এই গোপনে চলা কথাগুলো মেয়েদেরকে টার্গেট বানিয়ে ফেলে। ঠিক যেমন রাজু আর বুল্টির কেসটা ছিল (নামগুলো কাল্পনিক ব্যবহার করা হলেও গল্পটা ১০০ % সত্যি।)

রাজু লোকেদের কাছে শুনতো বুল্টি রাত করে বাড়ি ফেরে, মেয়েটার চরিত্র খারাপ। বুল্টিকে অন্য লোকেরা সামনা সামনি টিটকিরি করতো। রাজুর অত সাহস ছিল না, তাই সে বুল্টিকে জ্বালানোর নতুন পদ্ধতি তৈরি করে। সে প্রতিদিন বুল্টিকে দেখলেই জিজ্ঞাসা করতো কিরে? বিয়ে কবে করছিস? অনেক তো বয়স হল।

এভাবে জ্বালাতে ভালো লাগে তার। বুল্টিকে দেখলেই সে এই কথাটা বার বার বলতো। বুল্টিও তাতে রেগে যেত। এইরকম করে বলতে বলতে দেখা গেল পাড়ার সকলেই বুল্টিকে এই কথাটা বলতে শুরু করেছে। সহ্যের সীমা ছাড়ায় বুল্টির একদিন।

পরের দিন রাজু সে প্রশ্ন করতেই রাস্তায় পড়ে থাকা একটা ইট নিয়ে সপাটে সে মারে রাজুর মাথায়। রক্ত তো তখনই বেরোয়। বুল্টি তখন রেগে বলে আর একদিন যদি এই প্রশ্ন আর কারো মুখে শুনি, সবকটার এই এক অবস্থা করব।

রাজুর অবস্থা দেখে আর বুল্টির রাগ দেখে ভয়ে আর কেউ সামনে আসে না। বুল্টি ওখান থেকে চলে গেলে তখন রাজুকে সকলে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারপর থেকে বুল্টিকে দেখে আর কেউ কোনদিন কিছু বলেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here