‘একজিমা’, কীভাবে মুক্তি পারবেন জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা…

0
12418

যাদের একজিমা বা চর্মরোগ আছে তাদের জন্য শীতকালটা খুবই খারাপের। এতে রোগীর ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে থাকে, তার উপর শীতের শুষ্ক আবহওয়া আরও প্রকট করে তোলে। একজিমা কোনো ছোয়াছে রোগ নয়। সঠিক চিকিৎসা পেলে এই চর্মরোগ নিয়ন্ত্রন করা যায়। একজিমা মুলত শুষ্ক ত্বকের সমস্যা। শীতকালের শুকনো, রুক্ষ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারনে একজিমার সমস্যা বাড়ে।

হাতের খাঁজে, গলায়, ঘাড়ে বাদামী রঙের ছোপ দেখা যায় যা প্রচন্ড চুলকায় এবং প্রায়ই রক্ত বেরিয়ে যায়। এই একজিমা আসলে এলার্জির কারনে হয়। একজিমা তাদেরই হয় যাদের এলার্জির সমস্যা আছে। সর্দি কাশি জনিত এলার্জি বা এজমার ঝোক আছে তাদেরই বেশি একজিমা হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

অনেকেরই একজিমা নিয়ে কুসংস্কার রয়েছে যে একজিমা ছোয়াছে রোগ। তাই যাদের এই রোগ থাকে তাদের সমাজে কুন্ঠিত থাকতে হয়। কিন্তু একজিমা আসলে এলার্জি জনিত রোগ। এই রোগে প্রচন্ড চুলকানি সৃষ্টি হয়। নখ দিয়ে চুলকালে আরও বাজে অবস্থা হয়। অনেক সময় সংক্রমন হয়ে যায়।

ধুলো, ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস, আবার অনেক সময় ডিটারজেন্ট বা সাবান ত্বককে সংবেদনশীল করে দেয়, তখন ফুসকুড়ি বেড়ে যায়। একজিমা রোগীদের সবসময় ত্বককে আদ্র রাখতে হবে। স্নানের সময় বেশি গরম জল ব্যবহার করা যাবে না। অতিরিক্ত সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে না।

স্নানের পর বেশি জোরে গা না মুছে হালকা করে জল সরিয়ে নিয়ে আদ্র অবস্থাতেই তেল বা লোশন মেখে নিতে হবে। তবে যে সব লোশনে রাসায়নিক উপাদান নেই সেইসব জিনিস বেছে নেওয়াই ভালো। চুলকানি কমানোর জন্য এন্টি হিস্টামিন খাওয়া জেতে পারে।

চিকিৎসা পরিভাষায় একজিমাকে অটোপিক ডার্মাটাইটিস বলে। পরিবারের কারও এলার্জি জনিত এজমা হাপানির সমস্যা থাকলে সেই পরিবারে একজিমা হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। অর্থাৎ জিনগত কারনে একজিমা হয়ে থাকে। এছাড়াও যাদের ত্বক শুকনো তাদেরও একজিমা হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

কলকাতার বিশিষ্ট শিশু ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর সন্দীপন ধর বলেছেন অকারনে একজিমা নিয়ে ভয় পাওয়ার কারন নেই। কোনোভাবেই এই রোগ ছোয়াছে নয়, যদিও পুরোপুরি সেড়ে ওঠা সম্ভব নয়, তবুও এই রোগ নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব।

ত্বকে লাগানোর ওষুধ ব্যবহার করতে হবে, তার সাথে অ্যান্টি এলার্জিক ওসুধ খেতে হবে। চামড়া যেন কোনোভাবেই শুষ্ক না থাকে তার জন্য স্নান করে ভালো করে নারকেল তেল মাখতে হবে। যেই জায়গায় একজিমা হয়েছে সেই জায়গায় নখ লাগানো চলবে না। ধুলো ময়লা যত দূর সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।