বিয়ের হ্যাট্রিক করেছেন কলকাতার যে সব নায়ক-নায়িকারা…

0
8887

তারকাদের বিয়ের খবর শুনে ভক্তরা অনেক খুশি হন। তেমনই তারকাদের বিবাহ বিচ্ছেদের খবর শুনলে তাদের মন খারাপ হয়। কিন্তু ইতিহাস বলে তারকাদের সংসার নাকি তাসের ঘর, এই গড়ছে তো এই ভাংছে। এর জন্য অবশ্যই দায়ি করা হয় একে অপরের প্রতি সন্দেহ, অবিশ্বাস ও পরকীয়ার মত বিষয়কে। আজ আমরা আপনাদের জানাবো এমন কিছু তারকা সম্পর্কে যারা বিয়েতে হ্যাট্রিক করেছেন।

১) প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ঃ- টালিগঞ্জের জনপ্রিয় নায়ক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এই পর্যন্ত প্রায় তিনটি বিয়ে করেছেন। প্রথম বিয়ে করেন ১৯৯২ সালে অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়কে। ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন দেবশ্রীকে। কিন্তু মনের মিল না হওয়ায় ১৯৯৫ সালে তারা আলাদা হয়ে যান।

যদিও তাদের সেই বিচ্ছেদ দুজনের সম্মতিতেই হয়েছিল। এর পর প্রসেনজিৎ ১৯৯৭ সালে বিয়ে করেন অভিনেত্রী অর্পণা গুহ ঠাকুরতাকে। কিন্তু অভিনেতা তার সেই সংসারকেও বেশিদিন টিকিয়ে রাখতে পারেননি। ২০০২ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিয়ে ভেঙে যাবার পর প্রসেনজিৎ কিছুটা ভেঙে পরেন।

তখন হতাশা কাটিয়ে উঠতে তিনি অভিনয়ে মননিবেশ করেন। পরবর্তীতে সুখের আশায় তৃতীয় বারের মত নায়িকা অর্পিতা পালকে বিয়ে করেন। বর্তমানে অর্পিতার সাথেই এক ছেলেকে নিয়ে তিনি সুখে সংসার করছেন।

২) শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় ঃ- কলকাতার এই সুন্দরী নায়িকা সিনেমার থেকেও ব্যক্তিগত বিষয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি আলচনায় থাকেন। টলিউডে এই অভিনেত্রী সম্প্রতি খ্যাতি অর্জন করেছেন বিয়ের হ্যাট্রিক করে। শ্রাবন্তীর প্রথম বিয়ে হয় ২০১৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে।

তার প্রথম স্বামী ছলেন চলচ্চিত্র নিরমাতা রাজীব কুমার বিশ্বাস। রাজীবের স্ত্রী থাকা কালিন শ্রাবন্তী এক ছেলে সন্তানের মা হন। কিন্তু পরকীয়ার জের ধরে সেই সম্পর্ক বেশিদূর আগাতে পারেনি। পরে ২০১৬ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়।

এরপর সুখের আশায় নায়িকা দ্বিতীয় বিয়ে করেন মুম্বাইয়ের মডেল ও অভিনেতা কৃষাণ ব্রজকে। বিচ্ছেদের ১ মাস জেতে না জেতেই দ্বিতীয় বিয়ে করে চমক দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু বেশিদিন টিকিয়ে রাখতে পারেনি সেই সম্পর্ক। পরে ২০১৯ সালের শুরুতে তৃতীয় বিয়ে করেন রোশন সিংকে।

৩) রচনা ব্যানার্জি ঃ- সিনেমা জগতে শুরুতেই রচনা ব্যানার্জি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন উড়িষ্যার নায়ক সিদ্ধান্ত মহাপাত্রকে। যদিও পরকীয়ার জের ধরে বিয়ের এক বছরের মধ্যেই তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এর কিছুদিন পর তিনি প্রবাল বসুকে বিয়ে করেন।

এই ঘরের রচনার এক ছেলে রয়েছে, ছেলের নাম প্রনিল বসু। কিছুদিন আগে হয়তো কানাঘোষা শোনা গিয়েছিল রচনা ও প্রবাল বসুর ডিভোর্স হতে চলেছে। যদিও তার কারণ হিসাবে গুঞ্জন উঠেছিল রচনা নাকি কোন এক অভিনেতার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। তবে এই বিষয়ে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

৪) স্বস্তিকা মুখার্জী ঃ- ১৯৯৮ সালে প্রমিত সেনের সঙ্গে বিয়ে হয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জীর। বিয়ের পর থেকে পাকাপোক্তভাবে সম্পর্ক না থাকলেও ডিভোর্স হয়নি তাদের মধ্যে। তবে ২০০৪ সালে নায়ক জীতের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দেন স্বস্তিকা।

জানা যায় জীত ও স্বস্তিকার সেই সম্পর্ক গোপনে বিয়ে পর্যন্ত গড়িয়েছিল। কিন্তু কোন এক অজানা করনে একসাথে সংসার করা হয়নি তাদের। জীতের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাবার পর স্বস্তিকা অবশ্য বেশ কিছু সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এখনও পর্যন্ত স্বস্তিকার সর্বশেষ ও বর্তমান প্রেমিক সুমন মুখোপাধ্যায়। বর্তমানে তারা দুজনে লিভ-ইন রিলেশনশিপে রয়েছেন।

৫) মিঠুন চক্রবর্তী ঃ- আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন মিঠুন দার দুই স্ত্রী, যোগিতা বালি ও শ্রীদেবী। কিন্তু আপনারা হয়তো জানেন না যোগিতা বালি মিঠুনের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন বলিউডের তৎকালীন অভিনেত্রী হেলেনা লুক।

প্রথম স্ত্রীর সাথে ডিভোর্সের পর ১৯৭৮ সালে মিঠুন দা পারিবারিক ভাবে বিয়ে করেন যোগিতা বালিকে। পরবর্তীতে বলিউডের সুন্দরী নায়িকা শ্রীদেবীর প্রেমে পরেন মিঠুন দা। জানা যায় তাদের সম্পর্ক গোপনে বিয়ে পর্যন্ত গড়িয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে নায়িকা শ্রীদেবীর সাথে আর সংসার করা হয়ে ওঠেনি মিঠুন দার। পরে মিঠুন ফিরে যান তার স্ত্রী যোগিতা বালির কাছে।